ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!
- National
- Politics
- International
- Crime
- Law-Court
- Entertainment
- Religion and Education
- District News
- Exclusive
- Sports News
- Agriculture-Economy and Trade
- Interview
- Ramadan
- Documentary
- Health & Beauty
- Earn Money Online
- Kids
- Tech Review
- Book Review
- History
- Tour and Travel
- Stock Market
- Bangladesh
- Stock Video Footage
- Podcast
- Fact Checking
- Other
খামেনির জীবন দর্শনের মূলমন্ত্রই ইরানি তরুণদের প্রধান অনুপ্রেরণা
তেহরান, ইরান — মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির অন্যতম প্রধান স্থপতি, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের জীবন্ত কিংবদন্তি এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনি শাহাদাত বরণ করেছেন। তার এই মহাপ্রয়াণ কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্ব এবং বিশ্ব-রাজনীতির সমীকরণে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।
১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া এই মহান নেতা ইমাম খোমেনীর (রহ.) যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের হাল ধরেছিলেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুমকির মুখেও ইরানকে এক চুল নড়াতে দেননি। তার নেতৃত্বে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের একটি সাধারণ রাষ্ট্র থেকে সামরিক ও বৈজ্ঞানিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির জীবনের অন্যতম প্রধান ব্রত ছিল ফিলিস্তিনের মুক্তি। তিনি ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ (Axis of Resistance)-কে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে হিজবুল্লাহ, হামাস এবং অন্যান্য মুক্তিগামী সংগঠনগুলো আজ ইসরায়েল ও পশ্চিমা আধিপত্যের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির শাহাদাত এই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মধ্যে শোক নয়, বরং প্রতিশোধের এক নতুন আগ্নেয়গিরি তৈরি করবে।
"শাহাদাত কোনো পরাজয় নয়, বরং এটি বিজয়ের চূড়ান্ত সোপান।" — খামেনির জীবন দর্শনের এই মূলমন্ত্রই এখন ইরানি তরুণদের প্রধান অনুপ্রেরণা।
তার শাসনামলেই ইরান ড্রোন প্রযুক্তি, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ন্যানো-টেকনোলজিতে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর তালিকায় নাম লিখিয়েছে। তিনি সবসময় তরুণ বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত করতেন এবং বলতেন, "আমাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে।" তার শাহাদাতের পর এখন দেখার বিষয় ইরান কীভাবে তার রেখে যাওয়া এই শক্তিশালী ভিত্তি ধরে রাখে।
আয়াতুল্লাহ খামেনি চলে গেছেন, কিন্তু তিনি রেখে গেছেন একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং একটি আপসহীন আদর্শ। তার শাহাদাত ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের এক অভূতপূর্ব জোয়ার সৃষ্টি করেছে। তেহরানের রাস্তায় উপচে পড়া মানুষের ভিড় আজ বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছে—ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু চেতনার মৃত্যু নেই।
