MD IMRAN MUNSHI
|Subscribers
Breaking news
জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি।
ঝালকাঠির কাঠালিয়া-কচুয়া হয়ে মীরের হাট থেকে রাজাপুর মহাসড়কের বড় কাঠালিয়া সংলগ্ন এলাকার একটি বক্স কালভার্ট দীর্ঘ এক বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে। যথাযথ সংস্কারের অভাবে বর্তমানে এই স্থানটি সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকদের জন্য এক ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। জরুরি চলাচলের জন্য সড়কে স্টিলের পাত বসানো হলেও তা কোনো কাজে আসছে না, বরং দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঠালিয়া থেকে কচুয়া যাওয়ার প্রধান এই সড়কের গুরুত্বপূর্ণ কালভার্টটি প্রায় এক বছর আগে ভেঙে যায়। তখন সাময়িকভাবে যান চলাচলের জন্য সেখানে স্টিলের পাত বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও স্থায়ী কোনো সংস্কার না হওয়ায় স্টিলের পাতগুলো এখন পিচ্ছিল ও বিপদজনক হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই স্থানে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ৩-৪টি মারাত্মক দুর্ঘটনায় অন্তত ৫-৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে অপরিচিত চালকরা এখানে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন। পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই রুটে নিয়মিত চলাচলকারী গাড়িচালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাঙা কালভার্টের ওপর দিয়ে গাড়ি চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক চালক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শারীরিক আঘাত পাওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"এটি কাঠালিয়া ও কচুয়াবাসীর যাতায়াতের প্রধান সড়ক। এক বছর ধরে কালভার্টটি ভাঙা থাকলেও কারো যেন নজর নেই। আমরা সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি কখন জানি বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে।"
জনগুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। বর্তমান শোচনীয় অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, কালভার্টটি দ্রুত নতুন করে নির্মাণ বা স্থায়ী সংস্কার করে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
ঝালকাঠি-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা. ফয়জুল হক এর ভিশন। কাঠালিয়াতে সাংগঠনিক কাজে এসে এই বক্তব্য দেন ডক্টর ফয়জুল হক।
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ৫ নং শৌলজালিয়া ইউনিয়নের কচুয়া বাজারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা আত্নার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।এতে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি -১ ( রাজাপুর,কাঠালিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম জামাল _ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়াও উপস্থিত কাঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালালুর রহমান আকন ও সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম মিরবহর। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা সালমান খান বিপ্লব,ছাত্র দল নেতা শাহীন সরদার, স্থানীয় নেতাকর্মীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কাইয়ুম মেম্বার সহ একাধিক নেতৃবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠি ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এনসিপির ডা. মাহমুদা মিতু। দিনভর গণসংযোগ ও পথসভার মধ্য দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জনসমর্থন আদায় করছেন। আজ কাঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দিনব্যাপী এই গণসংযোগ কর্মসূচি পরিচালনা করেন তিনি।
আজ সকাল থেকেই ডা. মাহমুদা মিতু কাঠালিয়া উপজেলার কাঠালিয়া বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও থানা সংলগ্ন এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জনপদে গণসংযোগ করেন। এসময় তিনি সাধারণ ব্যবসায়ী, পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। তার এই গণসংযোগে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
গণসংযোগকালে ডা. মাহমুদা মিতুর সাথে উপস্থিত ছিলেন আহাদ শিকদার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কাঠালিয়া উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বিপুল সংখ্যায় এই প্রচারণায় অংশ নেন। ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই গণসংযোগে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
পথসভায় ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, "আমি কাঠালিয়া ও রাজাপুরের সাধারণ মানুষের জন্য ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই করতে চাই। এই জনপদের অবহেলিত মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য।"
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জোটগত রাজনীতির প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, "ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে বৃহত্তর স্বার্থ বড়। জোটের পক্ষ থেকে যাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হবে, আমরা তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব এবং তাকেই পূর্ণ সমর্থন দেব।"
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সাথে নিয়ে ডা. মাহমুদা মিতুর এই প্রচারণা সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা তার ইনসাফ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
ঝালকাঠির নিজস্ব প্রতিবেদক জানাচ্ছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহমুদা আলম মিতুর মনোনয়নপত্রকে নির্বাচন কমিশন বৈধ ঘোষণা করেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। ডা. মাহমুদা আলম মিতু জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ডেপুটি চিফ অর্গানাইজিং সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ অঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক হিসেবেও পদে আসীন আছেন। তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রচণ্ড উৎসাহমুখর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উপস্থিত কর্মী ও সমর্থকরা খুশিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন।
মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপে ডা. মিতুর কাগজপত্রে কিছু সামান্য মার্জনীয় ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছিল। তবে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তাত্ক্ষণিকভাবে এই সমস্যাগুলো সংশোধন করা হয়, যার ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করতে সক্ষম হন। ফলে শৌলজালিয়া ইউনিয়নের এই স্বনামধন্য সন্তান এখন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
শুধুমাত্র রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীই নয়, ডা. মাহমুদা আলম মিতুর সমর্থনে জাতীয় নাগরিক পার্টির ফিনল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক মো. আহাদ শিকদার এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির ঝালকাঠি জেলা আহ্বায়ক ইয়াসিন ফেরদৌস ইফতি সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঝালকাঠি নাগরিক পার্টির প্রতিনিধি সাকিব এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য ইমরান, মো বেলাল হোসেন ও মেহেদী হাসান এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্রের বৈধতা পাওয়ার পর ডা. মাহমুদা আলম মিতু এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "শৌলজালিয়া সহ রাজাপুর-কাঠালিয়ার মানুষের কল্যাণে ও ইনসাফের জন্য কাজ করতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।" নির্বাচনী এলাকায় তাঁর প্রার্থিতা বৈধতার খবর পৌঁছানোর পর সাধারণ ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের জন্য একটি ইতিবাচক সংবেদনশীলতার সূচনা করেছে।
ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে, সদ্য বিগত জুলাই যোদ্ধা আদি হত্যার বিচারের দাবিতে একটি ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচিটি প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী ধরে চলে এবং এতে আঞ্চলিক সচেতন ছাত্রমহল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলো উজ্জীবিতভাবে অংশগ্রহণ করে। ছাত্রদের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তাঁরা সমাজের জন্য ইনকিলাব জিন্দাবাদ এবং আমরা সবাই হাদী হব গুলির মুখে কথা কবো এই ধরনের স্লোগান দিয়ে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যায়। জুলাই যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার ঘটনাটি তাঁর গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলায় শোকের ছায়া নেমে এনেছে। এলাকাবাসীর মতে, এই আন্দোলন শুধু একটি হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করাই নয়, বরং এটি একপ্রকার সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতি উদাত্ত আহ্বান। হাদীর মৃত্যুতে সৃষ্ট শোকের আবহাওয়া এলাকায় সবদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষ খুবই দুঃখের সঙ্গে এই হারানোর ক্ষতিকে সহ্য করার চেষ্টা করছে।
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় শিক্ষক হাসিবের বিরুদ্ধে দায়ের করা গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় অভিভাবক সমাজে এই মুহূর্তে গভীর ক্ষোভ ভর করছে। এক শৈশবকালীন শিশু মিম আক্তারের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে, এবং ঘটনাটি রাজাপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ের সঙ্গে ঘটেছে, মিম, যা শোনা যাচ্ছে তার ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীর উপর ঘটেছে এটি।
কাঠালিয়ার আওরাবুনিয়া নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক হাসিব, যিনি ওই মাদ্রাসাতেই পড়ান এবং মিমের নানাবাড়ি আওরাবুনিয়া গ্রামে একটি প্রাইভেট কোচিংও পরিচালনা করেন, এই গুরুতর অভিযোগের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। গত শনিবার অনুমান করা ১১ ডিসেম্বর বিকেলের দিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে শিক্ষকের প্রাইভেট পড়ানোর রুমে, যেখানে একটি নির্দোষ শিশু শিক্ষা লাভের জন্য গিয়েছিল। অভিযোগে রয়েছে যে, পড়া না পারার 'অপরাধে' অভিযুক্ত শিক্ষক হাসিব ছাত্রীর কান ধরে টেনে তাকে তীব্রভাবে টেবিলের সাথে আঘাত করেন, যার ফলে মিম আক্তারের নাক ফেটে যায় এবং কানেও গুরুতর আঘাতের দাগ পড়ে। তা সত্ত্বেও থেমে থাকেননি শিক্ষক হাসিব; পরে তিনি একটি লাঠি ব্যবহার করে মেয়েটিকে আরও শারীরিক নির্যাতন করেন।
এই অবস্থায় গুরুতর আহত শিশুটিকে দ্রুত রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে এবং পরিবারটির প্রধান আবুল কালাম আজাদ দাবি জানিয়েছেন এই অমানবিক আচরণের জন্য দায়ী শিক্ষক হাসিবকে দ্রুত আইনগত বিচারের মুখোমুখি করার। এদিকে, স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। তবে, অভিযুক্ত শিক্ষক হাসিবের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে, স্থানীয় অভিভাবক সমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে এবং তাঁরা এমন ঘটনার প্রতিকারে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করছেন যাতে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না হয়। এই পুরো পরিস্থিতি এলাকায় ক্ষোভ ও লজ্জার মানসিকতা সৃষ্টি করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ঝালকাঠি নলছিটি ওসমান হাদির উপরে গুলির প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে জুলাই যোদ্ধা ও সাধারণ জনতার বিক্ষোভ ও ঝালকাঠি-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ।
ঝালকাঠির কাঠালিয়াতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম আজম সৈকত সন্ধ্যার পরে গন মিছিল কর্মসূচি পালন। এতে উপস্থিত ছিলেন তিনি সহ উপজেলা বিএনপির একাংশ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ৬ ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ফুল,মালয়েশিয়া বিএনপি নেতা ( সহোদর), উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আ. মালেক তালুকদার ও সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম। এতে ব্যাপক লোকজন উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
ঝালকাঠির কাঠালিয়াতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম আজম সৈকতের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত। আজকে ২৬ নভেম্বর রোজ বুধবার বিকাল ৩ ঘটিকার সময়ে কাঠালিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চত্বরে আয়োজিত হয় মিলাদ ও দোয়া।
এতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির একাংশ ও ৬ ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষক দলের উপজেলা সভাপতি মালেক ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।
ঝালকাঠিতে ছাত্রলীগের অবরোধ কর্মসূচি নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্রনেতা রেজাওন ইবনে জাকির, যিনি পরিচিত নাম জিসান। তিনি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষিত দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসাবে ১৩ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, ঝালকাঠির সদর এলাকায় এই কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনা করেন। বিশেষভাবে ঝালকাঠি সদর ১ নম্বর ওয়ার্ডে এই অবরোধ কার্যকরভাবে পালন হয়েছে। তরুণ ছাত্রনেতা রেজাওন ইবনে জাকির, যিনি ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক, এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।
সকাল থেকেই রেজাওন ইবনে জাকিরের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের এক দল নেতাকর্মী শহরের বিভিন্ন নিদিষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেন। তারা সরকারের প্রতি এবং দলের সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান দেন, যা স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে প্রচারিত হয়। তাদের কর্মসূচি এতটাই ব্যাপক ছিল যে তা ছাত্রলীগের নিজস্ব ফেসবুক পেইজে দেখা যায় এবং কর্মসূচির ব্যাপকতা প্রমাণ করে।
রেজাওন ইবনে জাকির স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। তার বাবা, ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জি এস জাকির, ঝালকাঠি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে, তরুণ ছাত্রনেতা রেজাওন স্থানীয় রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন এবং দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থাকছেন।
অবরোধ চলাকালীন সময়ে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি এই কর্মসূচিকে তীব্রভাবে বিরোধিতা করেছে। বিএনপি নেতারা এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এতে প্রতিহত করার জন্য রাজপথে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন যে এই কর্মসূচির বিপরীতে তারা আরও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
ঝালকাঠি-২ আসনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোকে ঘিরে দলীয় কোন্দল ও ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এই আসনে, যা নলছিটি ও ঝালকাঠি সদর এলাকা নিয়ে গঠিত, দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বিভাজনের একটি উদ্রেক দেখা গেছে। ইসরাত সুলতানা সম্প্রতি যখন তার মনোনয়ন লাভ করলেন, দলের বেশ কিছু মহল থেকে তীব্র আপত্তি উঠে আসতে শুরু করেছে। যা তাকে ঘিরে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ততা এবং দীর্ঘ সময় দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামে অংশ না নেয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হয়েছে। দলের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সংকটময় পরিস্থিতিতে তার অনুপস্থিতি এবং নিষ্ক্রিয়তার প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা।
এরপর মনোনয়নপ্রাপ্তির পর থেকেই অন্যান্য প্রার্থীরাও প্রশ্ন তুলেছেন; যেমন জেবা আল আমিন ও অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, তারা দলের দুঃসময়ে ইসরাত সুলতানার কোথায় ছিলেন তা জানতে চেয়েছেন। এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করে তুলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের একটি বড় অংশের ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে, যেখানে তারা দাবি করছেন যে ইসরাত সুলতানার গত পাঁচ বছরে কোনো কার্যকরী ভূমিকা ছিল না। নেতাকর্মীরা এই মনোনয়নকে বোধগম্য করতে পারছেন না এবং তাদের ভাষায় এমন ব্যক্তি দলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এছাড়াও, ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো: শাহিন হোসেন তার ক্ষোভ সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে ২০০১-২০০৬-এ ইসরাত সুলতানা কোথাও ছিলেন না এবং দলের প্রতি নিঃস্বার্থ ত্যাগই তাদের গুরুত্বপূর্ণ গুণ বলে না উল্লেখ করে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে লঞ্চে পালানোসহ নানা আপত্তিজনক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। দলের পরীক্ষিত নেতারা এসব ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করছেন এবং তাই এই মনোনয়নের পুনর্বিবেচনা করার তাগিদ দিচ্ছেন। তাদের মতে, দলের প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের অবহেলা করে এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া মারাত্মক ভুল হতে পারে, যা সংগঠনের ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করতে পারে।
ঝালকাঠি:
ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ ৭ নভেম্বর ২০২৫, শুক্রবার, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠিত এই র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে এক সভায় বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব এ্যাডঃ শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, এই দিনটি সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন। তিনি নেতাকর্মীদের ৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।
কাঠালিয়া:
এদিকে, একই দিবস উপলক্ষে ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলাতেও সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম আজম সৈকতের নেতৃত্বে একটি বর্নাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। কাঠালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া এই র্যালি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
এই র্যালিতে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা তৃণমূল পর্যায়ে দিবসটির গুরুত্ব ও দলের সংহতি প্রকাশ করে। বক্তারা শহীদ জিয়ার নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ঝালকাঠি ( কাঁঠালিয়া):
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঝালকাঠি ১ এর আওতাধীন কাঠালিয়ার ৫ নং শৌলজালিয়া ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উদ্যোগে একটি নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব গোলাম আজম সৈকত। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি দলীয় ঐক্যের উপর জোর দেন এবং চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি ও এর শেল্টার দেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
সভায় বক্তব্য প্রদানকালে গোলাম আজম সৈকত দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার সময়কার ঘটনা স্মরণ করে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, সেই কঠিন সময়ে তাঁকে তিনবার গুলিবিদ্ধ হতে হয়েছিল এবং তাঁকে জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। এই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
দলীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমি তার পক্ষেই কাজ করার জন্য সর্বাত্মক প্রয়াস চালাব।" তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতিও একই মনোভাব বজায় রেখে 'ধানের শীষ' প্রতীকের জন্য একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
এই সভায় জনাব সৈকত চাঁদাবাজ, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি এবং এর সাথে যুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে 'শক্ত আওয়াজ' তোলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে দলের মধ্যে এই ধরনের অপকর্মের কোনো স্থান নেই এবং যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিই দলের লক্ষ্য।
'ধানের শীষে ভোট দিন' স্লোগানটি সভায় আগতদের মধ্যে নির্বাচনী উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:প্রধান বক্তা: জনাব গোলাম আজম সৈকত।
আলোচকবৃন্দ: জনাব মো: মিজানুর রহমান আকন , জনাব জাকির হোসেন কিসলু সিকদার, জনাব খাইরুল আলম খোকন,জনাব গোলাম কবির,রেজাউল করিম,জনাব মো:বাদল হাওলাদার, আব্দুল মালেক তালুকদার,জনাব জাকির হোসেন পান্না মুন্সি ,জনাব লিনা পারভীন,জনাব ফজলুল হক, জনাব মো: কাইয়ুম হাওলাদার ,জনাব মো: মোশাররফ হোসেন,আয়োজনে: ৫ নং শৌলজালিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন।
উপস্থিত বক্তারাও তাদের বক্তব্যে জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
শৌলজালিয়া ইউনিয়নের সকল বাজারে সেলিম রেজার পক্ষে যুবদল ও বিএনপি নেতাদের ব্যাপক লিফলেট বিতরণ
কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত 'রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার' রূপরেখা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের উদ্যোগে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও ঝালকাঠি-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী সেলিম রেজার পক্ষে এই প্রচার কার্যক্রমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়।
নেতাকর্মীরা শৌলজালিয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাজার ও ফেরিঘাটসহ প্রায় সকল এলাকায় গণসংযোগ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ
শৌলজালিয়া ইউনিয়নের সকল বাজারে সেলিম রেজার পক্ষে যুবদল ও বিএনপি নেতাদের ব্যাপক লিফলেট বিতরণ
কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত 'রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার' রূপরেখা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের উদ্যোগে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও ঝালকাঠি-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী সেলিম রেজার পক্ষে এই প্রচার কার্যক্রমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়।
নেতাকর্মীরা শৌলজালিয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাজার ও ফেরিঘাটসহ প্রায় সকল এলাকায় গণসংযোগ করেন। এর মধ্যে
কচুয়া
কচুয়া ফেরিঘাট
শৌলজালিয়া খেয়াঘাট
শৌলজালিয়া বাজার
হক্কোনূর দরবার শরীফ
সেন্টারের হাট
দোগনা বাজার
মোল্লার হাট
বিনাপানি বাজার
বান্দাকাটা বাজার
গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন শৌলজালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ (রুবেল) (সাবেক ৬নং ওয়ার্ড যুবদল), মো. মাইনুল ইসলাম (সাবেক সভাপতি, শৌলজালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল), মো. জাহিদুল ইসলাম আকাশ খান (সাবেক প্রচার সম্পাদক, শৌলজালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল) প্রমুখ।এছাড়াও, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে সালাম সিকদার, মনির ঘরামি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রচারণা চলাকালীন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, তাঁরা সকলেই বিএনপি-এর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি তাঁরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন যে, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।
নেতৃবৃন্দ তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার রূপরেখা থেকে একটি জনবান্ধব দেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। গণসংযোগে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।
বেতাগী সরকারি কলেজে তুচ্ছ ঘটনায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত একাধিক; ছাত্রদল সভাপতির অভিযোগ বহিরাগতদের দিকে
বেতাগী (বরগুনা): বরগুনার বেতাগী সরকারি কলেজে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ক্লাস ও কলেজ বাসে বসা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট এই ঝগড়া একপর্যায়ে কলেজে ব্যাপক সংঘর্ষের রূপ নেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার সূত্রপাত:
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্লাস ও বাসে আসন গ্রহণ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এই বিবাদের জের ধরে শিক্ষার্থীরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মারামারির চেষ্টা করলে কলেজ ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে বলেন। তবে এরপরেও উত্তেজনা না কমে উল্টো কলেজ ক্যাম্পাসে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
দফায় দফায় সংঘর্ষ:
প্রাথমিক ঝগড়ার পর ক্যাম্পাসের ভেতরে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং কলেজ ছাত্রদলের নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়।
প্রশাসনের তৎপরতা ও বর্তমান অবস্থা:
খবর পেয়ে প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসন দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে এবং ক্যাম্পাসে উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে।
ছাত্রদল সভাপতির অভিযোগ ও গুঞ্জন:
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি। তিনি অভিযোগ করেন, "নিষিদ্ধ ঘোষিত (আওয়ামী লীগের) বহিরাগত লোকজন কলেজ ক্যাম্পাসে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে।"
অন্যদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে যে, কলেজ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরাই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর): পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ঐতিহাসিক বাজারে প্রবেশের প্রধান পথ—নাইয়াবাড়ি রোড বা টিএনটি রোড—আজ এক বিপজ্জনক 'মৃত্যুফাঁদে' পরিণত হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে তৈরি হলেও, নিম্নমানের কাজের কারণে রাস্তাটি দ্রুতই ভেঙেচুরে গেছে। শুধু রাস্তাই নয়, এর সঙ্গে থাকা অন্তত ৮ থেকে ১০টি ড্রেনের ঢাকনা সম্পূর্ণ উধাও বা ভেঙে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজারমুখী পণ্যবাহী ভারী ট্রাক চলাচল এবং ব্যাপক পথচারীর আনাগোনা সত্ত্বেও এই প্রধান সড়কের বেহাল দশা কারও নজরে আসছে না। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন ভান্ডারিয়ার আশেপাশের উপজেলা থেকে আসা শত শত মানুষ যাতায়াত করে। খোলা ড্রেনগুলো এবং ভাঙা রাস্তা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে, এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
স্কুল শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি:
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই রাস্তার পাশেই রয়েছে ভান্ডারিয়া মডেল স্কুল। প্রতিদিন অসংখ্য কোমলমতি শিশু এই বিপজ্জনক পথ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। সচেতন মহল মনে করছেন, সামান্য অসাবধানতার ফলেই যেকোনো শিশু বা পথচারী খোলা ড্রেনে পড়ে যেতে পারে, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার জন্ম দেবে।
পৌরসভার টোল আদায়, সংস্কারে অনীহা:
ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি পৌরসভার আওতাধীন। পৌর প্রশাসন নিয়মিত টোল আদায় করলেও, রাস্তার সংস্কারে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। ড্রেনের ঢাকনা না থাকা স্থানগুলোতে স্থানীয়রাই আলগা কাঠ বা বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করেছেন, যা একটি সাময়িক এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সমাধান।
নিম্নমানের কাজের জন্য রাস্তাটির এই দুরাবস্থা—ভাঙন, গর্ত এবং খোলা ড্রেন—সব মিলিয়ে এটি এখন একটি নীরব ঘাতক। স্থানীয় জনগণ দ্রুত এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নাইয়াবাড়ি (টিএনটি) রোডটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। জনস্বার্থে অতি দ্রুত এই সড়কের সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখায় সংখ্যালঘুদের সমান অধিকারের প্রতিশ্রুতিই মূল আকর্ষণ’
ঝালকাঠি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামত ও সংস্কারের ৩১ দফা’য় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রেখে ঝালকাঠিতে দ্বিতীয় দফায় শতাধিক নারী-পুরুষ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ঝালকাঠি সদর উপজেলার ২নং বিনয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপি'র উদ্যোগে স্থানীয় বিনয়কাঠী বাজারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই যোগদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্র কাঠামো মেরামত ও সংস্কারের ৩১ দফা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিতকরণের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি আঃ রহিম সরদার রফিক-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান সেলিম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ সৈয়দ হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট মো: শাহাদাৎ হোসেন।
এ সময় প্রধান বক্তার হাতে ফুল দিয়ে বিনয়কাঠী ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।
প্রধান বক্তা অ্যাডভোকেট মোঃ শাহাদাৎ হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বিএনপি সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার রূপরেখায় সকলের অধিকার রক্ষার জন্য সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। সুনির্দিষ্টভাবে ‘রেইনবো ন্যাশন’ বা রংধনু জাতিতে সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পৃথক দফা উল্লেখ করেছেন।"
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মোঃ সৈয়দ হোসেন বলেন, "বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পাহাড়ি, সমতল, ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের সকলেই বাংলাদেশী হিসাবে সমান মর্যাদা ভোগ করবেন।"
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোকন মল্লিক, ঝালকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান এবং ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) অ্যাডভোকেট মোঃ মিজানুর রহমান মুবিন।
বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে সকলের প্রতি মিলেমিশে দেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেনকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিকট দাবি জানান।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম আলম বাকলাই, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খন্দকার মাহামুদ হোসেন, বাবু চন্দন পোদ্দার, আজিজুর রহমান বশির, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনিসুজ্জামান চপল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান সরদার। সনাতন ধর্মের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মাধব চন্দ্র, নিতাই হালদার, আমিত সাহা ও সাবিত্রী রানী প্রমুখ।
সভায় যোগ দেওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিএনপির ৩১ দফাকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে দেশে প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সভা শেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে এবং ধানের শীষের বিজয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: ১১ই অক্টোবর, ২০২৫
ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া বাঁশবুনিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আজ শনিবার (১১ই অক্টোবর) বিকেলে 'আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট'-এর ফাইনাল খেলা শেষে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল মারামারির ঘটনা ঘটেছে। খেলার ফল ও উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ:
জানা যায়, বিকেল ৪টার পরে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষ হওয়ার পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পক্ষ অন্য পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের লক্ষ্য করে উত্তেজিত মন্তব্য করতে থাকলে মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন বাঁশ ও লাঠি নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয় এবং মাঠেই সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়।
তুমুল এই মারামারিতে উভয় দলের খেলোয়াড় ও দর্শক মিলিয়ে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, এত বড় একটি টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় এবং খেলা শেষে উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের সংঘর্ষ খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আয়োজক কমিটি দ্রুত ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করছে বলে জানা যায়। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঝালকাঠি: খুলানা-ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের প্রতাপ এলাকায় সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দ্রুতগামী বাস ও চাপা পড়া মোটরসাইকেলে আগুন লেগে দুটি যানবাহনই পুড়ে গেছে।
নিহত স্কুলশিক্ষকের নাম তোফাজ্জল হোসেন (৫৮)। তিনি ঝালকাঠি সদরের নথুল্লাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কয়া গ্রামের বাসিন্দা।
যেভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে সাকুরা পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৪৫৩৬)ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রতাপ এলাকার কাছাকাছি এই সংঘর্ষে তোফাজ্জল হোসেনের মোটরসাইকেলটি বাসের চাকার নিচে ঢুকে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বাসটি মোটরসাইকেলটিকে চাকার সাথে পিষ্ট করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভৈরবপাশা বাজারের কাছাকাছি টেনে নিয়ে যায়।
সংঘর্ষের ফলে তোফাজ্জল হোসেন ছিটকে রাস্তায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। অন্যদিকে, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে ঘর্ষণের ফলে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। এই আগুন দ্রুত বাস ও মোটরসাইকেল দুটিতেই ছড়িয়ে পড়লে দুটি যানই দগ্ধ হয়ে যায়।
উদ্ধার ও শিক্ষকের মৃত্যু
গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী তোফাজ্জল হোসেনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। নলছিটি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, "ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বাসচাপায় এক স্কুলশিক্ষক মারা গেছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"
