ভারতের কেরলায় শিক্ষার্থীদের উত্তাল বিক্ষোভ, নেতৃত্বে দীনেশ কুমার..
দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরালার শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যজুড়ে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর এখন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে রাজপথ থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কোণায় এক অনবদ্য প্রতিবাদী আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে কেরালার সমুদ্রতীরবর্তী শহরগুলোতে, যার কেন্দ্রে রয়েছেন তরুণ নেতা দীনেশ কুমার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে এই আন্দোলন ক্রমশই জোরালো হচ্ছে এবং এটি এখন রাজ্য প্রশাসনের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো কেরালার শিক্ষার্থীরাও শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বিষয়ক নানা অসঙ্গতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তুষ্ট ছিল সেই অসন্তোষেরই যেন বিস্ফোরক রূপ দেখা যাচ্ছে বর্তমানের এই গণআন্দোলনে গত কয়েকদিন ধরে কেরালার তিরুবনন্তপুরম, কোচি ও কালিকটসহ প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড হাতে রাজপথে নেমে এসেছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা বিভিন্ন স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরছে এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান স্লোগান হলো – "শিক্ষা সবার অধিকার, পণ্যের মতো নয়" এবং "তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত কেন?" শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চশিক্ষায় সরকারি ভর্তুকি বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি কমানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষা নীতিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দীনেশ কুমার, যিনি এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও মুখ, দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হলেও, শিক্ষার্থীদের সংহতি ও দৃঢ়তার কারণে তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না বরং প্রতিদিনই নতুন নতুন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দিয়ে এর পরিধি বৃদ্ধি করছে কেরালার এই উত্তাল ছাত্র আন্দোলন শুধু রাজ্য সরকারকেই নয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেও ভাবিয়ে তুলেছে এই বিক্ষোভের ফলে রাজ্যের জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে; রাস্তাঘাট অবরোধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও পরিবহন ব্যবস্থায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলন ভারতের বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের একটি অংশ, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যুবকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশা এবং সরকারি নীতির প্রতি অসন্তোষের প্রতিফলন দীনেশ কুমারের নেতৃত্বে এই আন্দোলন যেভাবে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে মনে হচ্ছে এটি কেবল কেরালার সমস্যা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জাতীয় পর্যায়েও এর প্রভাব ফেলবে এই আন্দোলন প্রমাণ করছে যে, যুবসমাজ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা কতটা সচেষ্ট আগামী দিনগুলোতে সরকার কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া পূরণে কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপরই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে এই আন্দোলন একটি শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে থাকবে যে, তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা কোনো সরকারের পক্ষেই সহজ নয় [সৌজন্যে: @dineshredbull (𝕏 (Twitter))]