মিরপুরের রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুরে দলীয় সংশ্লিষ্টতার তদন্তে কঠোর অবস্থানে সরকার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মিরপুরের রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুরে দলীয় সংশ্লিষ্টতার তদন্তে কঠোর অবস্থানে সরকার..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মিরপুরের রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুরে দলীয় সংশ্লিষ্টতার তদন্তে কঠোর অবস্থানে সরকার..
মিরপুরের রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুরে দলীয় সংশ্লিষ্টতার তদন্তে কঠোর অবস্থানে সরকার..
ছবি: সংগৃহীত
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একইসঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈত..

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক সরাসরি জড়িত থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় স্থাপনা বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং এর পেছনে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে প্রশাসন কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর এবং অপরাধীদের কোনো প্রকার রাজনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করা হবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন। ঘটনার নেপথ্যে থাকা ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আকস্মিক এই হামলায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে পড়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে যারা এই ভাঙচুরের প্রত্যক্ষদর্শী, তারা জানিয়েছেন যে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম তছনছ করেছে। এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং এর ফলে স্থানীয় নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তাদের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে যারা জনস্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এলপি গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটরদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গত আগস্ট মাসে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসের এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানির তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে বাজারদর ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার তৎপর রয়েছে। মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের সাথে নেগোসিয়েশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। কোনো ধরনের বিদেশি শর্ত বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে দেশের প্রয়োজনে এয়ারবাস বা বোয়িং কেনার মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সরকার স্বাধীন ও সার্বভৌম অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পরিশেষে, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। মিরপুরের ঘটনাটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় এবং দায়বদ্ধতার অভাবকে স্পষ্ট করে তোলে, যা দূর করতে প্রশাসনকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনৈতিক নেগোসিয়েশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় রাখার যে অঙ্গীকার উপদেষ্টা ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ কমে আসবে। সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমেই রাষ্ট্র তার প্রকৃত সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা আগামী দিনে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Geen reacties gevonden


News Card Generator