বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ন্যারেটিভ তৈরির অভিযোগ তথ্য উপদেষ্টার: সালমানের স্টুডিওর ঘটনায় কঠোর বার্তা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ন্যারেটিভ তৈরির অভিযোগ তথ্য উপদেষ্টার: সালমানের স্টুডিওর ঘটনায় কঠোর বার্তা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ন্যারেটিভ তৈরির অভিযোগ তথ্য উপদেষ্টার: সালমানের স্টুডিওর ঘটনায় কঠোর বার্তা..
বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ন্যারেটিভ তৈরির অভিযোগ তথ্য উপদেষ্টার: সালমানের স্টুডিওর ঘটনায় কঠোর বার্তা..
ছবি: সংগৃহীত
সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা বয়ান তৈরির অভিযোগ তুলেছেন এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনার ন..

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চলমান গুজব নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় থেকেই একটি বিশেষ মহল বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির তকমা বা ন্যারেটিভ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উপদেষ্টার মতে, এটি নিছক রাজনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার দূরত্বকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান সরকার বা সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করছে এমন কোনো প্রমাণ নেই, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যেই এই ধরনের বয়ান তৈরি করা হচ্ছে যা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে উপদেষ্টা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ঘটনার পরপরই চাঁদাবাজি ও বিএনপির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, পরবর্তীতে সালমান মুক্তাদির নিজেই তার বক্তব্যে পরিবর্তন আনেন। এই বিষয়টি উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি হওয়ায় তাদের প্রাথমিক বক্তব্য জনমনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতা ও এনসিপির নেতারা সালমানের প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারকে দায়ী করে যেসব মন্তব্য করেছিলেন, নতুন তথ্য সামনে আসার পরও তারা সেসব পোস্ট সংশোধন বা প্রত্যাহার করেননি। এই দায়িত্বহীন আচরণকে তিনি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে অভিহিত করেছেন এবং তথ্য যাচাই না করে প্রতিক্রিয়া জানানোর সংস্কৃতির সমালোচনা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিচার ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং সরকার একে হালকাভাবে দেখছে না। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে। সরকারি দলের কেউ, পুলিশ সদস্য কিংবা প্রভাবশালী যে-ই হোক না কেন, অপরাধী শনাক্ত হলে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সরকার ক্ষমতায় থাকলে যৌক্তিক সমালোচনার অনেক ক্ষেত্র থাকে, কিন্তু অপতথ্যের ওপর ভিত্তি করে সমালোচনা করা বা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভায়োলেন্স বা সহিংসতার পরিবর্তে গঠনমূলক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সরকার স্বাগত জানায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সামগ্রিক বিচারে, তথ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে এবং গুজব প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। সালমান মুক্তাদিরের মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘটনায় ভুল তথ্যের ব্যবহার যেভাবে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তা প্রমাণ করে যে ডিজিটাল যুগে তথ্যের সত্যতা যাচাই কতটা জরুরি। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যদি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়, তবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচারের আস্থা ফিরবে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নামে গুজব ছড়ানোর প্রবণতা হ্রাস পাবে। অন্যথায়, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দেশের স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator