একসাথে জল পানেও বিভেদ: অদৃশ্য শক্তির কারসাজি?
- Politics
- International
- Crime
- Law-Court
- Entertainment
- Religion and Education
- District News
- Exclusive
- Sports News
- Agriculture-Economy and Trade
- Interview
- Ramadan
- Documentary
- Health & Beauty
- Earn Money Online
- Kids
- Tech Review
- Book Review
- History
- Tour and Travel
- Stock Market
- Bangladesh
- Stock Video Footage
- Podcast
- Fact Checking
- Campus
- Investigative
- Other
একসাথে জল পানেও বিভেদ: অদৃশ্য শক্তির কারসাজি?
প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও গবেষক ডা. ওম সুধার একটি পর্যবেক্ষণ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা আমাদের বর্তমান সমাজের এক গভীর সংকটকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তার মর্মস্পর্শী উক্তিটি হলো, "লাঠি মারা ও লাঠির আঘাত খাওয়া ব্যক্তি যখন একসঙ্গে জল পান করতে পারে, তখন তাদের মধ্যে কে এসে বিভেদ তৈরি করে?" এই প্রশ্নটি কেবল একটি বাক্য নয়, বরং এটি মানব সমাজের অন্তর্নিহিত সহাবস্থান এবং বাহ্যিক প্ররোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সংঘাতের এক জটিল চিত্র তুলে ধরে ডা. সুধার এই ভাবনা বিশ্বজুড়ে সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার খোরাক যোগাচ্ছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই উক্তিটির গভীর তাৎপর্য রয়েছে, যেখানে প্রায়শই দেখা যায় বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের মধ্যে আপাত শান্তি ভেঙে বিভেদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ডা. ওম সুধার পর্যবেক্ষণের সারমর্ম হলো, মানুষ স্বভাবগতভাবে একে অপরের সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে, এমনকি যারা পরস্পর বিরোধী অবস্থানে থাকে, তারাও সাধারণ মানবিক প্রয়োজনে বা সরল বিশ্বাসে একসঙ্গে মিশতে পারে 'লাঠি মারা' এবং 'লাঠির আঘাত খাওয়া' – এই দুটি শব্দ ব্যবহার করে তিনি মূলত ক্ষমতার সম্পর্ক, শোষণ-বঞ্চনা বা দুটি বিপরীতমুখী পক্ষকে ইঙ্গিত করেছেন যখন এই দুই পক্ষ 'একসঙ্গে জল পান' করে, তখন তা তাদের মধ্যে বিদ্যমান বৈরিতা ভুলে গিয়ে এক মানবিক বন্ধন বা সাধারণ বোঝাপড়ার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় কিন্তু এর পরেই আসে সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন – "তখন তাদের মধ্যে কে আসে?" এই 'কে' বা 'অদৃশ্য শক্তি'ই হচ্ছে সংঘাতের মূল কারণ, যা স্বার্থান্বেষী মহল, রাজনৈতিক উস্কানিদাতা, গুজব সৃষ্টিকারী বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের রূপ ধারণ করতে পারে এই শক্তিই মানুষের মধ্যকার সাধারণ বোঝাপড়া ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে নষ্ট করে দেয়, বিভেদ ও বিদ্বেষের জন্ম দেয় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ডা. সুধার এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এখানে প্রায়শই দেখা যায়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী বা এমনকি প্রতিবেশী সম্প্রদায়ের মধ্যেও যখন স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় থাকে, তখন কিছু অসাধু চক্র বা ব্যক্তি বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বিভেদ তৈরি করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এর দৃষ্টান্ত বিরল নয়, যেখানে সহাবস্থানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে বা ক্ষমতা দখলের লোভে বিভিন্ন পক্ষকে একে অপরের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়া হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ক্ষেত্রেও এই 'অদৃশ্য শক্তির' ভূমিকা স্পষ্ট সাধারণ মানুষ যখন পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে বাস করে, তখন মিথ্যাচার, গুজব বা উস্কানিমূলক প্রচারণার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সন্দেহ ও বিদ্বেষের বীজ বপন করা হয়, যার ফলস্বরূপ ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা এই বিভেদের রাজনীতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ডা. ওম সুধার প্রশ্নটি আমাদের গভীর আত্মবিশ্লেষণে বাধ্য করে এই অদৃশ্য শক্তি কারা এবং তাদের উদ্দেশ্য কী, তা চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন এই বিভেদ সৃষ্টিকারী শক্তিকে উন্মোচন করার জন্য একই সাথে, মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভিন্ন মতের প্রতি সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে শিক্ষাব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সংহতির শিক্ষা প্রদান, গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং ন্যায় ও সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই 'অদৃশ্য শক্তির' প্রভাব কমানো সম্ভব কেবল তখনই লাঠিধারী ও ভুক্তভোগী উভয়েই সত্যিকার অর্থে শান্তিতে সহাবস্থান করতে পারবে এবং সমাজে স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে আসবে [সৌজন্যে: @dromsudhaa (𝕏 (Twitter))]