বিশাল মহাবিশ্বে ক্ষুদ্র মানুষ: আমাদের অস্তিত্বের ক্ষুদ্রতা কি বিস্ময়কর?
বিশাল মহাবিশ্বে ক্ষুদ্র মানুষ: আমাদের অস্তিত্বের ক্ষুদ্রতা কি বিস্ময়কর?
মহাবিশ্বের বিশালতা আমাদের ধারণার অতীত কত লক্ষ কোটি নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যালাক্সি নিয়ে এই অনন্ত জগৎ, তা গুনে শেষ করা যায় না প্রতি রাতে আমরা যখন আকাশের দিকে তাকাই, তখন অগণিত তারা দেখতে পাই কিন্তু এই দৃশ্যমান তারাগুলো আসলে আমাদের মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র একটি অংশেরই প্রতিচ্ছবি বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের আকার প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ ব্যাস আর এই দৃশ্যমান মহাবিশ্বের বাইরেও যে আরও কত বিশাল অংশ রয়েছে, তা আমাদের কল্পনারও বাইরে এই বিশালতার তুলনায় আমাদের পৃথিবী, আমাদের সৌরজগত এমনকি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আমাদের অস্তিত্ব এই অকল্পনীয় বিশাল মহাবিশ্বের তুলনায় এতই নগণ্য যে তা প্রায় অর্থহীন মনে হতে পারে কোটি কোটি বছর ধরে মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে, নক্ষত্র জন্ম নিচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকালের মধ্যে আমরা মহাবিশ্বের এমন কিছু জানতে পারি, যা এর বিশালতার তুলনায় হয়তো কিছুই নয় এই সত্য উপলব্ধি করলে আমাদের অহংকার চূর্ণ হতে পারে, আমাদের ক্ষুদ্রতা আরও স্পষ্ট হতে পারে আমরা যা জানি, তা হয়তো এই মহাজাগতিক নিয়মের ক্ষুদ্র একটি কণা মাত্র এই বিশাল মহাবিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা কি সত্যিই বুদ্ধিমান, নাকি এক ধরণের নির্বোধ? আমরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ জীব বলে দাবি করি, অথচ এই অনন্ত মহাবিশ্বের রহস্যের সামান্যতম অংশও আমরা উন্মোচন করতে পারিনি আমাদের জ্ঞান, আমাদের প্রযুক্তি, আমাদের সভ্যতা – সবই এই মহাজাগতিক পটভূমিতে অত্যন্ত সীমিত এই উপলব্ধি আমাদের বিনয়ী হতে শেখায়, আমাদের জ্ঞানের সীমা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে মহাবিশ্বের এই অপার রহস্যের সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের নিজেদের ক্ষুদ্রতা এবং মহাবিশ্বের বিশালতাকে মেনে নিয়েই আমাদের পথ চলতে হবে [সৌজন্যে: Facebook (Facebook)]