ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন..
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন..
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির তালিকায় উঠতে যাওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথাগত দাতা-গ্রহীতা সম্পর্কের বাইরে গিয়ে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদার..

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার গত রবিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে তার উন্নয়ন যাত্রার এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পথে রয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, রাজনৈতিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জলবায়ুগত ঝুঁকি মোকাবেলার মতো জটিল চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে কেবল উন্নয়ন সহায়তাপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে নয়, বরং একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

রাষ্ট্রদূত মিলার এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যা এক অনন্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, এই চুক্তির সফলতা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে আইনের শাসন, শ্রম অধিকার, মানবাধিকারের সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোকে তিনি চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য চুক্তির উদাহরণ টেনে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, বরং একটি জবাবদিহিতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। ভুক্তভোগী বা উদ্যোক্তা মহলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের মতে, রাষ্ট্রদূত মিলারের এই বক্তব্য বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসন সংস্কার এবং নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট বার্তা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেবল আর্থিক বিনিয়োগ নয়, বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর, উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার উদাহরণ হিসেবে চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও গ্রিন বন্ড প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত আরও জানিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো অতীতে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ইইউ আগ্রহী। সরকারি প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ যেন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে, সেজন্য ইউরোপীয় মূল্যবোধ ও বিনিয়োগের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।

পরিশেষে, রাষ্ট্রদূতের এই প্রস্তাবনা বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে, অন্যদিকে সুশাসন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে কঠোর মানদণ্ড অনুসরণের চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। যদি বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শ্রম অধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার জায়গাগুলোতে কার্যকর সংস্কার আনতে পারে, তবে ইইউর সঙ্গে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দেশের রপ্তানি খাতকে বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘমেয়াদে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, সহনশীল এবং অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক হবে।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator