বাংলামোটরে চাঁদাবাজি ও গুলি বর্ষণ: যুবদল নেতা সাইমনসহ চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাংলামোটরে চাঁদাবাজি ও গুলি বর্ষণ: যুবদল নেতা সাইমনসহ চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বাংলামোটরে চাঁদাবাজি ও গুলি বর্ষণ: যুবদল নেতা সাইমনসহ চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর..
বাংলামোটরে চাঁদাবাজি ও গুলি বর্ষণ: যুবদল নেতা সাইমনসহ চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর..
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর বাংলামোটরে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর ও গুলি চালানোর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।..

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলা, মারধর ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনসহ চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিউ ইস্কাটন এলাকায় মো. সোহান নামের এক ব্যক্তির পথরোধ করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন সাইমন ও তার সহযোগীরা। ভুক্তভোগী টাকা দিতে অস্বীকার করলে সাইমন সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন এবং সোহানের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার চেষ্টা চালান। এক পর্যায়ে পিস্তলের বাঁট দিয়ে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত জখম করা হয়। জনরোষের মুখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও পরবর্তীতে পুনরায় ফিরে এসে সোহান ও তার ভগ্নিপতি মোক্তার হোসেনের ওপর চড়াও হয় এবং তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। স্থানীয়দের ধাওয়ায় অভিযুক্তরা আটক হওয়ার পর হাতিরঝিল থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয় এবং এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।

ভুক্তভোগী মো. সোহান ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। ঘটনার দিন সোহানকে পরিকল্পিতভাবে একা পেয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক হামলার পর সোহান যখন চিকিৎসা নিতে যাচ্ছিলেন, তখন হামলাকারীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে মোটরসাইকেলে করে এসে তাকে বাধা দেয় এবং তাকে রক্ষা করতে আসা আত্মীয়কে মারধর করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, সাইমন ও তার সহযোগীদের এই বেপরোয়া আচরণের কারণে এলাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, কেবলমাত্র রিমান্ড নয়, বরং এই সন্ত্রাসী চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই মো. নাসিম চার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান শুনানি শেষে সাইমনের চার দিন এবং অন্য তিন সহযোগী ওমর, মোর্শেদ ও শাওনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী বিভিন্ন মাদক সংক্রান্ত মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে, যা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গভীরতা নির্দেশ করে। শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ প্রদান করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই সন্ত্রাসী চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের নাম বেরিয়ে আসবে এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস ও অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

রাজধানীর জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি বর্ষণের এই ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির একটি স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বা প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীরা যেভাবে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হচ্ছে, তা নাগরিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের এই রিমান্ড আদেশ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া যদি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন না হয়, তবে অপরাধ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবহন ও বাণিজ্যিক এলাকায় চাঁদাবাজির মতো অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর নজরদারি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ এমন জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেতে পারে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator