ময়মনসিংহে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত সাত: সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ময়মনসিংহে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত সাত: সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ময়মনসিংহে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত সাত: সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না..
ময়মনসিংহে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত সাত: সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না..
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহ নগরীর গন্দ্রপা বাইপাস এলাকায় দ্রুতগতির বাসের চাপায় অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।..

ময়মনসিংহ নগরীর গন্দ্রপা বাইপাস এলাকায় শুক্রবার বেলা সোয়া একটার দিকে ঘটা এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ সাতজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীতমুখী অটোরিকশাটিকে সরাসরি চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই যাত্রীরা প্রাণ হারান। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই প্রকট ছিল যে, অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে লোহালক্কড়ের স্তূপে পরিণত হয়েছে এবং বাসটির সামনের অংশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি মূলত চালকদের বেপরোয়া গতি এবং মহাসড়কে ছোট ও ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের ভয়াবহ পরিণতির একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং উদ্ধারকাজ চলাকালীন সড়কটিতে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।

সড়কটিতে যাতায়াতকারী ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, বাইপাস সড়কগুলোতে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। দুর্ঘটনার শিকার অটোরিকশাটির আরোহীরা গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই এমন নৃশংস মৃত্যুর শিকার হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছিল এবং অটোরিকশাটিকে পাশ কাটানোর সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে অধিকাংশ সময় পরিবহন শ্রমিকরা গতির নেশায় মেতে থাকেন, যার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে বাইপাস সড়কগুলোতে অটোরিকশা বা থ্রি-হুইলারের মতো ছোট যানবাহনের অবাধ বিচরণ এবং ভারী বাসের পাল্লাপাল্লি চালানোর প্রবণতা এই মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘতর করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসের চালক ও তার সহকারীদের গাফিলতিই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হতে পারে। তবে বাস মালিক সমিতি বা সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট জবাবদিহিতা বা দায় স্বীকারের বার্তা পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের যে দাবি দীর্ঘদিনের, তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষী চালকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।

এই দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত, তবুও সেখানে গতিসীমা নির্ধারণ বা সতর্কতামূলক সংকেত স্থাপনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সাধারণ মানুষের এই যাতায়াত ব্যবস্থা আরও অনিরাপদ হয়ে উঠবে এবং একই ধরনের ট্র্যাজেডি বারবার ফিরে আসবে। পরিবহন খাতের এই বিশৃঙ্খলা রোধে কেবল দায়সারা তদন্ত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির এই ঘটনা আমাদের পরিবহন ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা ও চালকদের দায়বদ্ধতার চরম অভাবকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে, যা রোধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator