হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার: রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার: রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার: রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন..
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার: রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন..
ছবি: সংগৃহীত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।..

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের সাথে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হওয়ার পর, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও হেনস্তার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শুক্রবার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একজন সিনিয়র সিটিজেন এবং মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার পরেও তাকে যেভাবে হ্যান্ডকাফ ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে, তা দেশের নাগরিক অধিকার ও বিচারিক আচরণের মানদণ্ড নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাটি মূলত বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং প্রবাসীদের প্রতি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি হিসেবে সামনে এসেছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী, দেশের প্রধান এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি, মালামাল পেতে দীর্ঘসূত্রতা এবং ট্রলি সংকটের মতো বিষয়গুলো নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। অথচ এই প্রবাসীরাই রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ঠিক এই জায়গাটিতেই প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, রাষ্ট্রের মেরুদণ্ডস্বরূপ প্রবাসীদের প্রতি কেন এই অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ করা হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা ঢাকতে কর্তৃপক্ষ বরাবরই কঠোর অবস্থানের আশ্রয় নেয়। একদিকে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের সীমাহীন ব্যর্থতা, অন্যদিকে যৌক্তিক প্রতিবাদকারীকে দমন করার এই সংস্কৃতি প্রবাসীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্কাইট্র্যাক্স র‍্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দশ বিমানবন্দরের তালিকায় শাহজালালের অনুপস্থিতিই প্রমাণ করে যে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে এখানে সুশাসন ও যাত্রীসেবার অভাব কতটা প্রকট।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অশোভন আচরণ ও কাজে বাধা দেওয়ার কারণেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে একে সরকারের দ্বিমুখী নীতির বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যেখানে হাসপাতাল ভাঙচুরকারী বা স্টুডিওতে হামলাকারীদের চিহ্নিত করা বা গ্রেফতারের ক্ষেত্রে প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা পরিলক্ষিত হয়, সেখানে একজন নাগরিকের প্রতি এমন দ্রুত বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া চরম বৈষম্যমূলক। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিরোধিতা এবং তাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের মাধ্যমে এক ধরনের প্রবাসীবিদ্বেষী মনোভাব প্রদর্শন করছে। কর্তৃপক্ষের এই কঠোর অবস্থান আদতে বিমানবন্দরের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে আড়াল করার একটি কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির গ্রেফতারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের পরিবহন ও বিমান চলাচল খাতের সামগ্রিক ভঙ্গুর কাঠামোর বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের এই ধরণের দমনমূলক আচরণ সাধারণ মানুষের মাঝে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের অধিকার আদায়ের পথকে সংকুচিত করে তুলবে। বিমানবন্দরে সেবার মান নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রতিবাদী কণ্ঠকে রুদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা দেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও ক্ষুণ্ণ করবে। অবিলম্বে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং হয়রানিমূলক আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ না করলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও নিরাপদ ভ্রমণের অধিকার চরম হুমকিতে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator