সাইদুর রহমান বাচ্চুর নেতৃত্বে জাতীয় জুট মিল চালুর আন্দোলন থেকে শিল্পায়ন

التالي

সাইদুর রহমান বাচ্চুর নেতৃত্বে জাতীয় জুট মিল চালুর আন্দোলন থেকে শিল্পায়ন

5 Views· 13/08/26
Juwel Hossain
Juwel Hossain
43 مشتركين
43
في

⁣সিরাজগঞ্জের শিল্প ও অর্থনীতির ইতিহাসে ‘কওমী জুট মিল’ (বর্তমান জাতীয় জুট মিল) কেবল একটি কারখানা নয়, এটি স্থানীয় হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন-জীবিকার প্রতীক। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত পৌর এলাকার রায়পুরের ঐতিহ্যবাহী এই জুট মিলটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন অসংখ্য শ্রমিক, আর পাটের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন এলাকার কৃষকরা।

তবে সেই নিস্তব্ধতা ও স্থবিরতা ভাঙতে শুরু করেছে। জুট মিলটি পুনরায় চালু করা এবং শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে এবং সিরাজগঞ্জের শিল্প পুনরুজ্জীবনে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আজ আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।

জাতীয় জুট মিলের ১নং গেটের সামনে আয়োজিত বিভিন্ন মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইদুর রহমান বাচ্চু শুরু থেকেই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং মিলটি পুনরায় চালুর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দাবি করে আসছিলেন।

তৎকালীন মানববন্ধনে জেলা বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জেলা শ্রমিক দল ও জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সমন্বয়ে শ্রমিকদের পক্ষে সুর চড়ান তিনি। সাইদুর রহমান বাচ্চু জোর দিয়ে বলেছিলেন, "পলিথিন নিষিদ্ধের পর বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহার বাড়াতে কওমী জুট মিল পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি। সিরাজগঞ্জ একটি কৃষিভিত্তিক জেলা, এখানে প্রচুর পাট উৎপাদন হয়। মিলটি বন্ধ থাকায় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ ও কারখানাটি চালু করা এখন সময়ের দাবি।"

শ্রমিকদের এই দূরদিনে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত শক্ত হাতে পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রশাসনিক উদ্যোগের পর কওমী জুট মিলসকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জে শুরু হতে যাচ্ছে এক বিশাল অর্থনৈতিক বিপ্লব। জাতীয় জুট মিলসের ৭৫ একর জমিনের মধ্যে প্রায় ৩৮ একর জমি ইজারা পাচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এখানে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি বিশাল শিল্প কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যেখানে প্রস্তুত করা হবে তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প ও পাটজাত ব্যাগ, জুতা ও খেলনা, কাঁচামাল, প্যাকেজিং ও আধুনিক পণ্য সংরক্ষণাগার।

সাড়ে ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও বিশাল টার্নওভার
এই নতুন বিনিয়োগের ফলে সিরাজগঞ্জের স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, যা স্থানীয় বেকারত্ব দূর করতে বিশাল ভূমিকা রাখবে। নতুন এই কারখানা থেকে বছরে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার বা লেনদেন অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিল্পায়নের এই নতুন সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক জাগরণকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাইদুর রহমান বাচ্চু সিরাজগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-র প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন।

শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে জেলার সামগ্রিক শিল্পায়ন—প্রতিটি পদক্ষেপেই সাইদুর রহমান বাচ্চুর দূরদর্শী নেতৃত্ব সিরাজগঞ্জের সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বন্ধ জুট মিলের জমিতে গড়ে ওঠা এই নতুন শিল্প অঞ্চল সিরাজগঞ্জকে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তুলবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
.
#sirajganj #jutemills #bachchu

أظهر المزيد

 0 تعليقات sort   ترتيب حسب


التالي