পাটনায় চাকরিপ্রার্থীদের মিছিলে ফের লাঠিচার্জ, আহত অনেকে; এলাকায় উত্তেজনা..
পাটনায় চাকরিপ্রার্থীদের মিছিলে ফের লাঠিচার্জ, আহত অনেকে; এলাকায় উত্তেজনা..
আজ ২৫ জুলাই ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনায় ফের সরকারি চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর ওপর পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে শহরের ডাকবাংলা মোড়ের কাছে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে হাজার হাজার যুবক-যুবতী সরকারি চাকরির পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং দ্রুত নিয়োগের দাবিতে জড়ো হয়েছিলেন পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শক্তি প্রয়োগ করে এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে অনেককেই স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই বিহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী পাটনার ডাকবাংলা মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন তাদের মূল দাবি ছিল, সাম্প্রতিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে স্বচ্ছতার অভাব, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অভিযোগগুলোর সুরাহা করা একপর্যায়ে তারা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলা হলেও তারা পিছু হটতে রাজি হননি এরপরই পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশের অতর্কিত হামলায় মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বহু চাকরিপ্রার্থী প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন অনেককে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায় পাটনায় সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা নতুন নয় গত কয়েক মাস ধরে বিহারে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে উচ্চ বেকারত্বের হার এবং সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা যুবকদের মধ্যে তীব্র হতাশার জন্ম দিয়েছে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকার তাদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, বরং আন্দোলন দমন করতে বলপ্রয়োগের আশ্রয় নিচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের সমালোচনা করেছে তারা অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার এবং লাঠিচার্জের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুব সমাজের মধ্যে বাড়তে থাকা এই ক্ষোভ কেবল বিহারের একার সমস্যা নয়, এটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের এক বড় প্রতিফলন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার সকলেরই আছে তবে বারবার যেভাবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা সমাজে গভীর অসন্তোষ তৈরি করছে এই ধরনের ঘটনা তরুণ সমাজের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে সরকারের উচিত ছিল, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা এই ঘটনার পর পাটনা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি না সরকার দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে [সৌজন্যে: @bhoopesh221 (𝕏 (Twitter))]