মেশিনে রোগ শনাক্তের নামে প্রতারণার অভিযোগ, হাতে সেন্সর ধরিয়েই ‘সব রোগ শনাক্ত’।
মেশিনে রোগ শনাক্তের নামে প্রতারণার অভিযোগ, হাতে সেন্সর ধরিয়েই ‘সব রোগ শনাক্ত’।
মেশিনে রোগ শনাক্তের নামে প্রতারণার অভিযোগ, হাতে সেন্সর ধরিয়েই ‘সব রোগ শনাক্ত’
আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘মা ফাতেমা সাফল্য হোমিও ফার্মেসি’তে একটি তথাকথিত ‘Quantum Magnetic Resonance Analyzer’ মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। শুধুমাত্র হাতে একটি সেন্সর ধরিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই শরীরের বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্তের দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে আগত রোগীদের হাতে সেন্সর ধরিয়ে কিডনি, লিভার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ শনাক্তের কথা বলা হয়। পরবর্তীতে ওই তথাকথিত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখিয়ে রোগীদের কাছে ওষুধ বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিষয়টির সত্যতা যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কয়েকজন সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানটিতে গেলে ব্যবহৃত মেশিনটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, সরকারি অনুমোদন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা সম্পর্কে জানতে চান। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কিনা এবং কোন আইনের আওতায় ‘সব রোগ শনাক্ত’ করার দাবি করা হচ্ছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
এ সময় একজন ডিএইচএমএস (DHMS) চিকিৎসক কীভাবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের রোগ নির্ণয় পদ্ধতির অনুরূপ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যবহৃত মেশিনটির বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা, সরকারি অনুমোদন কিংবা এ সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য কোনো গবেষণা বা তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা, প্যাথলজি, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। শুধুমাত্র হাতে সেন্সর ধরিয়ে শরীরের সব ধরনের রোগ শনাক্ত করার দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যাচাইবিহীন দাবি ও প্রশ্নবিদ্ধ চিকিৎসা কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা।
