মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর তদারকির দাবি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর তদারকির দাবি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর তদারকির দাবি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের..
মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর তদারকির দাবি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের..
ছবি: সংগৃহীত
দেশের কওমি মাদ্রাসাসহ সব দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কঠোর সরকারি নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন।..

দেশের কওমি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগ। সম্প্রতি এক জরুরি বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন। মূলত মাদ্রাসাকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতার অভাবে প্রায়শই শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা কোনোভাবেই একটি আধুনিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি দেশের প্রতিটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়মতান্ত্রিক তদারকি ও জবাবদিহিতার কাঠামোর আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করতে বর্তমান আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন উল্লেখ করেছে যে, মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ গোপনীয়তা ও তদারকির অভাবকে পুঁজি করে কতিপয় অসাধু শিক্ষক ও কর্মচারী শিশুদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এসব অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংগঠনটির মতে, প্রতিটি মাদ্রাসায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিদর্শনের স্থায়ী ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া, শিশুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, তা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ থেকে বঞ্চিত করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির একটি স্বাধীন ও কার্যকর পদ্ধতি গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন জানিয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তারা সরকারের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সব মাদ্রাসাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নজরদারিতে আনা, নিয়মিত পরিদর্শনের স্বচ্ছ প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা। এই দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ যেমন উন্নত হবে, তেমনি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিও রক্ষা পাবে। দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্টদের উচিত সরকারের এই নজরদারিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা, যাতে কোনো শিক্ষার্থীকেই আর নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।

পরিশেষে, মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের এই প্রবণতা রোধ করা সম্ভব না হলে তা সামগ্রিক শিক্ষা খাতের ওপর একটি বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করবে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে দ্বীনি শিক্ষার প্রতি মানুষের অনীহা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতাও বৃদ্ধি পেতে পারে। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের এই দাবি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি শিশুর মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার একটি জরুরি আহ্বান। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যদি দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ নিরাপদ হবে এবং শিশুদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অন্যথায়, এই অবহেলা ও তদারকির অভাব ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ সামাজিক সংকটের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator