দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযান: ১৬৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযান: ১৬৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার..

হাসিনুজ্জামান মিন্টু avatar   
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযান: ১৬৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার..
দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযান: ১৬৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার..
ছবি: সংগৃহীত
দিনাজপুরের বিরল ও ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিশেষ অভিযানে ১৬৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা।..

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোতে গত ২৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ১৬৫ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবির আওতাধীন ধর্মজান, রামচন্দ্রপুর ও চাপসার বিওপির সদস্যরা সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর এই অভিযান চালান। চোরাকারবারিরা সীমান্ত পার করে দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ পণ্য প্রবেশের অপচেষ্টা চালালে বিজিবির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অতর্কিত তল্লাশি শুরু করে। অভিযানে উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত এই অভিযানে বিজিবি সদস্যরা চোরাচালানের রুটগুলো চিহ্নিত করতে সক্ষম হন এবং পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেন। তবে অভিযানের সময় চোরাচালানের সাথে সরাসরি জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, যা ইঙ্গিত দেয় যে পাচারকারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীর মতে, বিরল ও হরিপুর উপজেলার এই রুটগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চোরাচালানের নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে চোরাকারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে সীমান্ত পেরিয়ে মাদকদ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসে, যা তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নিয়মিত টহল থাকলেও চোরাকারবারিদের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তারা স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের সহায়তায় এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকৃত মদের চালানটি মূলত সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সরবরাহের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মালিকবিহীন অবস্থায় মদ উদ্ধারের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, চোরাকারবারিরা বিজিবির নজরদারি এড়াতে বিভিন্ন সময় মদের চালানগুলো ঝোপঝাড় বা গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখছে, যা পরবর্তীতে সুবিধামতো সময়ে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা থাকে তাদের।

ঘটনার প্রেক্ষিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মাদক চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বিজিবি সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, উদ্ধার করা মদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং চোরাচালানের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, এই ধরনের বিশেষ অভিযান কেবল মাদক উদ্ধারের জন্য নয়, বরং সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে জনমনে স্বস্তি ফেরানোর একটি অংশ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন যে, সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সহজ হয়।

সামগ্রিকভাবে, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এই অভিযান মাদক পাচারকারীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। তবে সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের এই নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ ঠেকানো কেবল বিজিবির নিয়মিত অভিযানের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, বরং এর পেছনে থাকা মূল হোতাদের খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এই তৎপরতা প্রশংসনীয় হলেও চোরাচালান রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যদি সীমান্ত দিয়ে এভাবে অবৈধ পণ্যের প্রবেশ অব্যাহত থাকে, তবে তা জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই সীমান্ত এলাকার প্রতিটি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর আইনি নজরদারি বজায় রাখা এখন পরিবহন ও সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator