১০ দিন নিখোঁজের পর বাড়ি ফিরলেন আলোচিত গৃহবধূ নুপুর আক্তার
নেজাম উদ্দীন-রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মৌলানা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন পর গৃহবধূ নুপুর আক্তারকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর তাঁকে তাঁর মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নুপুর আক্তার সরফভাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং প্রবাসী মোস্তফা কামালের স্ত্রী। ২০২১ সালে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের কোনো সন্তান নেই।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন নুপুর। এ ঘটনায় ১৬ অক্টোবর তাঁর মা ডেইজি আক্তার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ৪৬৯।
জিডির পর নুপুরের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিকভাবে তাঁর অবস্থান গাজীপুরের ভাসান এলাকায় শনাক্ত হয়। পরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নেও তাঁর অবস্থান পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই তিনি স্থান পরিবর্তন করেন বলে জানা গেছে। এতে তাঁকে উদ্ধারের কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এদিকে, গত ১৮ অক্টোবর নুপুরের শাশুড়িকে কেন্দ্র করে তাঁর বাবার বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। পরে ৯৯৯-এর সহায়তায় থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
অবশেষে ২২ অক্টোবর দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে নুপুর আক্তারকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় তাঁর মা ডেইজি আক্তার, নানা শামসুল আলম এবং স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে ভাই হৃদয়, চাচা খালেক, সাজ্জাদ ও রোজি আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়।
পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুপুর আক্তার স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে গাজীপুরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে নুপুরের বক্তব্য, কিছুটা মান-অভিমান থেকে তিনি পরিচিতজনের বাসায় অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি বড় আকার ধারণ করায় তিনি ফিরে আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এক বান্ধবী ও পরিচিত এক পুরুষ বন্ধুর সহায়তায় তিনি গাজীপুরে যান।
এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দীন বলেন, “নুপুর বাড়ি ত্যাগ করার পর থেকেই আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু করি। বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় কয়েকটি অভিযান ব্যর্থ হয়। পরে ডিবি পুলিশ ও পুলিশের একটি চৌকস দলের নেতৃত্বে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাঁর মা জিডি প্রত্যাহার করলে মায়ের জিম্মায় তাঁকে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে তিনি স্বেচ্ছায় নিরুদ্দেশ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।”
নুপুর আক্তারের নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় আলোচনা চলছিল। তাঁর ফিরে আসার মধ্য দিয়ে ঘটনার একটি অধ্যায়ের অবসান হলেও নিখোঁজ থাকার পুরো সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি
কিংবা কোন চক্রের সাথে জড়িত কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে