পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি কীর্তিনাশার দুই সেতু, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি কীর্তিনাশার দুই সেতু, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি কীর্তিনাশার দুই সেতু, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ..
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি কীর্তিনাশার দুই সেতু, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ..
ছবি: সংগৃহীত
****

 শরীয়তপুরে কীর্তিনাশা নদীর ওপর জরাজীর্ণ দুটি সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এর পাশেই নতুন দুটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলেও পাঁচ বছরেও তা শেষ হয়নি। গত দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যানজটের কারণে বাড়ছে যাতায়াতের সময়ও।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় একটি এবং জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট এলাকায় অন্য সেতুটি নির্মাণাধীন। শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য বর্তমানে পুরোনো সেতু দুটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে যান চলাচল

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর শহর থেকে জাজিরার নাওডোবা পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কটির দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু চালুর পর এই সড়কে যানবাহনের চলাচল বেড়েছে। বর্তমানে সড়ক ও সেতু দুটি দিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা আড়াই শতাধিক।

১৯৯১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রেমতলায় ১১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ করে। একই সময়ে জাজিরার কাজীরহাটে নির্মাণ করা হয় ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের আরেকটি সেতু।

দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেতু দুটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সেতুর মেঝে ও রেলিং থেকে রড বেরিয়ে পড়েছে। একটি সেতুতে এক পাশ থেকে যানবাহন উঠলে বিপরীত দিক থেকে অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে প্রায়ই দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

যানজটে বাড়ছে যাতায়াতের সময়

শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের চালক লোকমান হোসেন জানান, প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে একবার ঢাকায় যান এবং সেখান থেকে শরীয়তপুরে ফিরে আসেন। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে শরীয়তপুর থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী যেতে দেড় ঘণ্টা লাগার কথা। কিন্তু কাজীরহাট সেতু এলাকায় যানজটের কারণে প্রায়ই দুই ঘণ্টা লেগে যায়।

তিনি জানান, কাজীরহাট এলাকায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট যানজটে আটকে থাকতে হয়। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হন।

গোসাইরহাট সদরের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনও সপ্তাহে দুই দিন ব্যবসার কাজে ঢাকায় যাতায়াত করেন। তাঁর ভাষ্য, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে উঠে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে জাজিরার নাওডোবায় পৌঁছানো সম্ভব। কিন্তু কাজীরহাটের পুরোনো সেতু এলাকায় যানজটে অতিরিক্ত ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ব্যয় হয়।

৫৮ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ বন্ধ

শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের নাওডোবা পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে ২০২০ সালে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। প্রকল্পের আওতায় প্রেমতলায় ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের এবং কাজীরহাটে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের দুটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সওজ।

সেতু দুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৫৮ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ১ এপ্রিল জামিল ইকবাল লিমিটেড ও মোজাহারুল এন্টারপ্রাইজকে যৌথভাবে কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাজীরহাট সেতুর প্রায় ৬০ শতাংশ এবং প্রেমতলা সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে গত দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনবার কাজ শেষ করার সময় বাড়ানো হয়েছে। চতুর্থবার সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাজীরহাট সেতুর নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নদীর মধ্যে সেতুর কিছু অংশ নির্মিত হলেও বাকি কাজ এগোয়নি। অন্যদিকে প্রেমতলা সেতুর মূল কাঠামোর অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে সংযোগ সড়ক, রেলিং ও বিভিন্ন সার্ভিস লাইনের কাজ এখনো বাকি।

ব্যয় বাড়ানোর আবেদন ঠিকাদারের

সওজ সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত কাজের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে চুক্তিমূল্যের বাইরে আরও ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

৫৮ কোটি টাকার চুক্তিমূল্যের বিপরীতে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ৪৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার বিল তুলে নিয়েছে।

যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী কিংশুক মণ্ডল জানান, করোনাকালে কাজটি পাওয়ার পর নির্মাণকাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়। এরপর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্যান্য কারণেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, সেতু দুটিতে কিছু অতিরিক্ত কাজ করতে হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক দফায় নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সওজের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে বাকি কাজ শেষ করে সেতু দুটি সওজের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় কবে নাগাদ সেতু দুটি চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। দ্রুত কাজ শেষ করে নতুন সেতু চালু করা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতুর ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি যাতায়াতের ভোগান্তিও কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator