১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশ্যে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন। জনবহুল এই দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে তরুণদের কেবল সরকারি কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মাঠে নামতে হবে। বিশেষ করে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং ঢাকার বায়ুদূষণ মোকাবিলায় তরুণদের সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে তিনি রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে পরিবেশ রক্ষাকে একটি অভ্যাসে পরিণত করা, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পরিবেশের অপরিচ্ছন্নতা যে সরাসরি জনস্বাস্থ্যের অবনতির কারণ, তা বিশ্লেষণ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি পরিবার ও কর্মস্থলকে জীবাণুমুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের বাস্তব পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা এবং জলাশয়ে বর্জ্য নিষ্কাশনের ফলে মশার প্রজননক্ষেত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ডেঙ্গু সংক্রমণের অন্যতম প্রধান উৎস। প্রধানমন্ত্রী বিএনসিসি ও স্কাউটদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা প্রতি শনিবারের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিজেদের নিবেদিত করে এবং সাধারণ মানুষকে ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে উৎসাহিত করে। তার মতে, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে, সেখানে তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা একটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাই চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে হলে রোগ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হিসেবে পরিচ্ছন্নতাকেই প্রধান অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
সরকারের পক্ষ থেকে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় কেবল নির্দেশনার ওপর নির্ভর না করে জাপানের উদাহরণ টেনে জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছেন। তার মতে, রাস্তাঘাটে ময়লা না ফেলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য তরুণদের সামাজিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, বৃক্ষরোপণই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শীতল ও নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করতে। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের এই সম্পৃক্ততা দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় সরকারকেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়ভার তাদের ওপরই ন্যস্ত হবে, তাই বর্তমানের প্রতিটি পদক্ষেপই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। নদী-নালা ও জলাশয় দূষণমুক্ত রাখার পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে তরুণদের কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগ কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি টেকসই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে সরকার। যদি তরুণ প্রজন্ম ব্যক্তিগত সচেতনতা থেকে শুরু করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতে পারে, তবেই অদূর ভবিষ্যতে একটি স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পরিবেশগত এই সংকট উত্তরণে তরুণদের এই ভূমিকা দেশের পরিবহন ও নগর ব্যবস্থাপনার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।