যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা: ক্ষুব্ধ রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্ম.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা: ক্ষুব্ধ রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্ম..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা: ক্ষুব্ধ রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্ম..
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা: ক্ষুব্ধ রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্ম..
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্ম।..

গত ১২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিমানবন্দর এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি অশীতিপর এই জ্যেষ্ঠ নাগরিকের পথ আটকে যে অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক আচরণ প্রদর্শন করেছেন, তা শিষ্টাচার ও মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হুইলচেয়ারে থাকা একজন প্রবীণ ব্যক্তির ওপর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও ধৃষ্টতাপূর্ণ আক্রমণ কেবল ব্যক্তিগত হেনস্তা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের একজন সম্মানিত নাগরিক ও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রয়াস বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ঘটনার আকস্মিকতা এবং এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্মের সভাপতি সাবেক সচিব মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম এবং মহাসচিব সাবেক সিনিয়র সচিব খ. ম. কবিরুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে তাদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেকোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও, প্রবীণ ও অসুস্থ একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটির নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট। তারা মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনে অধ্যাপক ইউনূসের সাহসী নেতৃত্বকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যেই একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এই কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এই ধরনের আচরণ প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সংহতি ও নৈতিক অবস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্মের নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনে অধ্যাপক ইউনূসের অবদান অনস্বীকার্য। এমতাবস্থায়, তার সম্মানহানির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, সরকার যদি এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বিষয় হিসেবে এড়িয়ে না গিয়ে দায়ীদের চিহ্নিত করে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনে, তবেই ভবিষ্যতে এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের ওপর অর্পিত এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই দেশের নাগরিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা সমুন্নত রাখা সম্ভব বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।

সবশেষে, এই ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির হেনস্তা নয়, বরং এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর একটি পরোক্ষ আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশবাসীকে সকল প্রকার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটা এই ঘটনাটি ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও দেশের সম্মান রক্ষায় সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং দেশের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে যে আরও বেশি সতর্ক ও সক্রিয় হতে হবে, তা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি পুনরায় প্রমাণ করে দিয়েছে।

Nessun commento trovato


News Card Generator