পটুয়াখালীর বাউফলে স্কুল শিক্ষার্থীর টিফিনের রুটিতে ব্লেড: শিশু খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পটুয়াখালীর বাউফলে স্কুল শিক্ষার্থীর টিফিনের রুটিতে ব্লেড: শিশু খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
পটুয়াখালীর বাউফলে স্কুল শিক্ষার্থীর টিফিনের রুটিতে ব্লেড: শিশু খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা..
পটুয়াখালীর বাউফলে স্কুল শিক্ষার্থীর টিফিনের রুটিতে ব্লেড: শিশু খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা..
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর বাউফল দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিতরণকৃত সরকারি ফিডিং কর্মসূচির রুটির ভেতর থেকে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে অভিভাবক মহলে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।..

পটুয়াখালীর বাউফল দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সন্ধানী শীলকে সরবরাহ করা সরকারি ফিডিং কর্মসূচির বনরুটির ভেতর থেকে একটি ধারালো ব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় থেকে টিফিন হিসেবে এই রুটিটি বিতরণ করা হয়। সন্ধানী শীল রুটিটি না খেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসার পর সন্ধ্যায় তার মা কলি রানী সেটি ভেঙে খাওয়ার সময় রুটির ভেতরে লুকানো অবস্থায় ব্লেডটি দেখতে পান। মূলত বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সরবরাহ করা শিশু খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিতরণের ক্ষেত্রে চরম গাফিলতির বিষয়টি এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ঘটনার পর থেকে বাউফল উপজেলাজুড়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ কোমলমতি শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এখানে প্রশ্নবিদ্ধ। আট বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সন্ধানী শীলের মা কলি রানী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যিনি অত্যন্ত কষ্টে সংসার চালান। তিনি জানান, রুটি ভেঙে ভেতরে পুরোনো ও ভাঙা ব্লেডটি পাওয়ার পর তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমি নিজের চোখে ব্লেডটি দেখেছি এবং স্থানীয় ক্রেতাদেরও বিষয়টি দেখিয়েছি, কিন্তু এরপরও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টিফিন বিতরণের সময় খাবারের মান যাচাই করার কোনো ব্যবস্থা নেই এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় এসব খাদ্যপণ্য এখন শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রুটি যদি শিশুটি বিদ্যালয়েই খেয়ে ফেলত, তবে যে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা বেগম অভিযোগটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি উল্টো ভুক্তভোগী শিশুটিকে চালাক আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন যে, শিক্ষার্থী নিজেই রুটির ভেতরে ব্লেড ঢুকিয়ে থাকতে পারে। শিক্ষকের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য এবং দায় এড়ানোর মানসিকতা পুরো ঘটনার তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করছে। এদিকে বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবকেই নির্দেশ করে। এর আগে গত জুলাই মাসে গৌরনদীতে একই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে ব্লেডটি কারখানা থেকে নয়, বরং শিক্ষার্থীর মাধ্যমে রুটির ভেতরে গেছে। বাউফলের এই ঘটনাতেও একই ধরনের অজুহাত তৈরির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা, যা অপরাধীদের আড়াল করার একটি কৌশল হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

টিফিনের রুটিতে ব্লেড পাওয়ার মতো ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, বরং এটি সরকারি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনার গভীরে থাকা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার একটি বড় প্রতিফলন। শিশু খাদ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে বারবার এমন অভিযোগ উঠলেও কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্বহীন আচরণ এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের নীরবতা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একইসঙ্গে, যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই রুটি সরবরাহ করছে, তাদের কঠোর নজরদারির আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার দায়ভার কে নেবে, সেই প্রশ্ন এখন জনমনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

Nema komentara


News Card Generator