মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের পথে তুরস্ক ও পাকিস্তান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের পথে তুরস্ক ও পাকিস্তান..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের পথে তুরস্ক ও পাকিস্তান..
মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের পথে তুরস্ক ও পাকিস্তান..
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান।..

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রথমবারের মতো সক্রিয় করা হয়েছে ঐতিহাসিক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত সোমবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক জরুরি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান এই ত্রিপক্ষীয় জোটের আওতায় সৌদি ভূখণ্ডে দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা এবং বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষিতে এই নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তানের এই সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোয় এক নতুন মেরুকরণের সূচনা করেছে। মূলত গত আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, জোটের যেকোনো সদস্য রাষ্ট্র বহিঃশত্রুর আক্রমণের শিকার হলে অন্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বর্তমানে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে, কারণ হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক আগ্রাসন রিয়াদের তেল অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক নৌ-চলাচলের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত জুলাই থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন মোড় নেওয়ায় হুতিরা সৌদি সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বেশ কিছু অঞ্চল পুনর্দখল করে নিয়েছে, যা সৌদি আরবের অভ্যন্তরে চরম নিরাপত্তা শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। যদিও যৌথ বিবৃতিতে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে সৌদি ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের হামলাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষ হিসেবে সৌদি আরব তার দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং কৌশলগত বাণিজ্যিক পথগুলো সুরক্ষিত রাখার তাগিদে এই সামরিক সহায়তা গ্রহণ করেছে। তবে মোতায়েনকৃত বাহিনীর নির্দিষ্ট কর্মপরিধি বা সামরিক সক্ষমতার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা না হলেও, এটি নিশ্চিত যে রিয়াদ সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর পাল্টা অভিযানের সাথে সমন্বয় করেই এই সামরিক মোতায়েন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, মক্কা চুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এখন থেকে প্রতিটি দেশ তাদের নির্ধারিত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা প্রস্তুত রাখবে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা সংকটের সমাধানে এই ত্রিপক্ষীয় জোটের ভূমিকা কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং এটি হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই সম্মিলিত অংশগ্রহণ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বহুগুণ শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রিয়াদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দ্রুত মোতায়েন বা র‍্যাপিড ডেপ্লয়মেন্টের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হুতিদের দখলে থাকা অঞ্চলগুলো পুনর্দখলের যে প্রক্রিয়া ইয়েমেনি বাহিনী সোমবার থেকে শুরু করেছে, তাতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহায়তা বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সামরিক হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ মানচিত্রে এক দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একদিকে যেমন সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুরক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন করে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেন সংকটে এই জোটের অন্তর্ভুক্তি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। তবে সাধারণ নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এই পরিস্থিতির গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ সৌদি আরবের স্থিতিশীলতা সরাসরি বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সামরিক জোটের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত নিরসনে বা নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো পথ উন্মোচন করবে কি না, তা এখন সময়ের দাবি।

No comments found


News Card Generator