মার্কিন রাজনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতি: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ঐতিহাসিক ধস.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মার্কিন রাজনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতি: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ঐতিহাসিক ধস..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মার্কিন রাজনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতি: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ঐতিহাসিক ধস..
মার্কিন রাজনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতি: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ঐতিহাসিক ধস..
ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ জনমত জরিপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার রেকর্ড ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।..

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক নজিরবিহীন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে তার কাজের প্রতি অনুমোদনের হার মাত্র ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ গবেষণায় উঠে আসা এই তথ্য ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পুরো মেয়াদের সর্বনিম্ন হার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মূলত স্বাধীন ভোটার এবং লাতিনো সম্প্রদায়ের মধ্যে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যে গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন ট্রাম্পের বিজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল, তাদের এই বিমুখতা রিপাবলিকান পার্টির জন্য আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, ফলে ট্রাম্পের এই জনসমর্থন হারানোর বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসের নেপথ্যে থাকা বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশেষ করে লাতিনো ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এনবিসি নিউজ ও টেলিমুন্ডোর জরিপ অনুযায়ী, ৫৯ শতাংশ লাতিনো ভোটার বর্তমানে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে দেখতে চাইছেন, যা গত দুই বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে মাত্র ২৪ শতাংশ হিস্পানিক ভোটার ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী বা হতাশ ভোটারদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া অভিবাসন নীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরানের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব তাদের জীবনযাত্রায় পড়ছে। অনেক ভোটারই স্পষ্ট করে বলছেন যে, বর্তমান প্রশাসনের নীতিমালা তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে এই বিশাল সংখ্যক ভোটার এখন দলীয় আনুগত্য পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, যেখানে তিনি জরিপের তথ্যের সত্যতাকে অস্বীকার করে উল্টো গণমাধ্যমের দিকে আঙুল তুলেছেন। নেব্রাস্কা সফরের প্রাক্কালে তিনি সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে তার জনপ্রিয়তা কমার জন্য দায়ী করে বলেন যে তিনি তার কাজে অত্যন্ত সফল। তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে রিপাবলিকান দলের ভেতরেই অস্বস্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলের অনেক স্থানীয় নেতা এখন ট্রাম্পের বিতর্কিত অবস্থান থেকে নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রাখছেন, যাতে অভিবাসন ইস্যুতে ভোটারদের ক্ষোভ থেকে তারা রক্ষা পেতে পারেন। প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং জনমতের এই নেতিবাচক প্রবণতা ঠেকাতে এখন পর্যন্ত রিপাবলিকান হাই কমান্ডের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর কৌশল বা সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি, যা দলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকেই প্রকট করে তুলছে।

ট্রাম্পের এই জনসমর্থন হারানোর প্রভাব কেবল তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির ওপর নয়, বরং পুরো মার্কিন নির্বাচনী কাঠামো এবং নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য একটি কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাশাপাশি ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাও দুরূহ হয়ে পড়বে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা শেষ পর্যন্ত মার্কিন ক্ষমতার ভারসাম্যকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator