ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে মো. জিএম সরকার জুয়েলকে সভাপতি করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
জানা গেছে, গত সোমবার রামগোপালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মো. জিএম সরকার জুয়েলকে সভাপতি এবং মো. বাবু মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই জিএম সরকার জুয়েলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে দাবি করা হয়, তিনি আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
বিষয়টি নজরে আসার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ময়মনসিংহ উত্তর জেলা শাখা মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) জিএম সরকার জুয়েলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।
সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক ফারুক আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উপস্থিতিতে সংগঠনের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
এদিকে, একই সময়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকেও জিএম সরকার জুয়েলকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক-১ উমর ফারুক স্বাধীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. সোহেল রানার সিদ্ধান্ত অনুমোদনক্রমে জিএম সরকার জুয়েলকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে আরও একটি রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এসেছে। স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, জিএম সরকার জুয়েল বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগ গৌরীপুর পৌর শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ৭ নম্বর রামগোপালপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন বলেও জানা গেছে।
একই ব্যক্তিকে একদিকে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং অন্যদিকে বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি করা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
তবে জিএম সরকার জুয়েলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং তাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে সভাপতি করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।