সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় মাত্র ৮ ঘণ্টায় উন্মোচিত হয়েছে এক চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য। নিহত মরিয়ম বেগম (৪৮) হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে জেলায় যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, পুলিশি অভিযান তা মুহূর্তেই স্বস্তিতে পরিণত করেছে।
গত ৭ ডিসেম্বর নলিচাপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেতে কলাগাছের নিচে কলাপাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় এক নারীর লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে পিবিআই সিরাজগঞ্জের সহযোগিতায় মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়—নিহত মরিয়ম বেগম, স্বামী মৃত নুর ইসলাম, বাড়ি খোকসাবাড়ী, সিরাজগঞ্জ সদর।
হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে দায়িত্ব নেন সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)। তার তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ হাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সিরাজগঞ্জ সার্কেল মোঃ নাজরান রউফের নেতৃত্বে গঠন করা হয় একটি চৌকস তদন্ত টিম। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক মাঠ তদন্তের সমন্বয়ে দ্রুতই শনাক্ত করা হয় হত্যাকারীকে।
গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ সোহেল রানা (৩৫), পিতা-মোঃ আসাদুল্লাহ, বাড়ি গুনেরগাঁতী, সিরাজগঞ্জ সদর। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক। পুলিশ জানায়, সোহেল ও মরিয়মের মধ্যে প্রায় ২-৩ বছরের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বিয়ের চাপ ও দ্বন্দ্বের জেরে সম্পর্কের টানাপড়েন বাড়তে থাকে। অন্য ব্যক্তির সঙ্গে মরিয়মের নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠায় সোহেলের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কুশাহাটা এলাকায় দেখা করতে গিয়ে তারা ধানক্ষেতের পাশের স্থানে যায়। সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সোহেল ওড়না পেঁচিয়ে মরিয়মকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং লাশ কলাগাছের নিচে ড্রেনে ফেলে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারের পর সোহেল রানা হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিরাজগঞ্জে চাঞ্চল্যকর কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত সাড়া দিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে সব ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।