ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে পরিচালিত পৃথক দুটি অভিযানে ১২৩ বোতল ফেন্সিডিলজাতীয় মাদক এবং ৬২০ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)। গত শুক্রবার সকালে উপজেলার বেলুয়া ও বরুয়াল গ্রামে এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। অভিযানে আটককৃতরা হলেন হরিপুর থানার কোশগাঁও গ্রামের মো. এনাবুলের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩২) এবং বরুয়াল গ্রামের মৃত নুহু বিশ্বাসের ছেলে তোফাজ্জল ওরফে তফজুল (২৮)। মূলত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১৩-এর দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল এই দুই মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়, যা সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বেলুয়া গ্রামের জাদুরানি-বনগাঁও সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় জসিম উদ্দিনকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ৭৪ বোতল পিকেড্রিল ও ৪৯ বোতল ফেন্সিবিল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসিম মাদক ব্যবসার সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এসআরবি-১৩-এর সদস্যরা বরুয়াল গ্রামে তোফাজ্জলের বাড়িতে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করে। তোফাজ্জলের শয়নকক্ষের শোকেসে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি স্থানীয় যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবার দিকে ঠেলে দিচ্ছিল, যার ফলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছিল।
ঘটনার প্রেক্ষিতে এসআরবি-১৩-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সংস্থাটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে মাদকের চোরাচালান রোধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত হলেও, মাদক কারবারিদের শিকড় উৎপাটনে নিয়মিত টহল এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মাদকের এই সিন্ডিকেটের সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে আটককৃতদের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের এই মাদক বিরোধী অভিযান পরিবহন ও জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিলেও, সীমান্ত এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অতীতেও দেখা গেছে যে, কঠোর অভিযানের পরেও মাদক কারবারিরা নতুন নতুন কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাই কেবল গ্রেপ্তার নয়, বরং মাদকের মূল সরবরাহ চেইন ভেঙে দিতে আন্তঃজেলা ও সীমান্তভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় মাদকের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।