গত ১ অক্টোবর বিকেলে চাঁদপুর পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আল আকসা লাইভ বেকারি থেকে বাটারবন কিনে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন রহমান নামের এক ক্রেতা। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানটির ওপর আস্থা রেখে নিয়মিত বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ক্রয় করে আসছিলেন, কিন্তু এদিন প্যাকেট খোলার পর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। বাটারবনের ভেতরে পিঁপড়া ও পোকামাকড় দেখতে পাওয়ার পর এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, খাবারগুলো উৎপাদনের পর যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি অথবা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা হয়েছে। একজন নিয়মিত ক্রেতা হিসেবে এমন নিম্নমানের ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ খাবার গ্রহণ করা কেবল প্রতারণাই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত এই বেকারিটি খাদ্য নিরাপত্তা আইন ও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী রহমানের অভিযোগ অনুযায়ী, বাটারবনের ভেতরে পোকামাকড়ের উপস্থিতি এবং খাবারগুলো বাসি হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি যখন বিষয়টি বেকারি কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন, তখন তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের দুঃখপ্রকাশ বা সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো মালিকপক্ষের আচরণ ছিল চরম উদাসীন ও অবজ্ঞাসূচক, যেন খাদ্যপণ্যের মান বজায় না রাখা একটি স্বাভাবিক বিষয়। এই ধরনের মানসিকতা খাদ্য ব্যবসার নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ক্রেতাদের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিষ্ঠানটির দায়বদ্ধতার অভাবকে ফুটিয়ে তোলে। বাসি ও পোকামাকড়যুক্ত খাবার বিক্রির ফলে ক্রেতারা কেবল আর্থিকভাবেই প্রতারিত হচ্ছেন না, বরং ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে পড়ছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জনবহুল এলাকায় এমন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য কীভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবই এই ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন বেপরোয়া হওয়ার প্রধান কারণ। ঘটনার পর বেকারি কর্তৃপক্ষের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, যা তাদের অপরাধমূলক নীরবতাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। স্থানীয়রা এখন প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন অনতিবিলম্বে আল আকসা লাইভ বেকারির উৎপাদন ব্যবস্থা, খাদ্যের মান এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের বিস্তার রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
খাদ্যপণ্যে পোকামাকড় পাওয়ার এই ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগ নয়, বরং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় ত্রুটির প্রতিফলন। যদি দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকির আতঙ্ক আরও বাড়বে এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য ব্যবসার প্রসার ঘটবে। ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনা এড়াতে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে শুধু জরিমানা নয়, বরং লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোরতর পদক্ষেপ নিতে হবে। নাগরিকদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বের অংশ, তাই চাঁদপুরের এই বেকারির অনিয়মের তদন্ত এবং এর সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।