চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সম্প্রতি সংঘটিত একটি সহিংসতার ঘটনায় মজিবুর রহমান নামে ১৫ বছরের এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পোমরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জিয়ানগর আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
মজিবুরের বাবা মো. এরশাদ রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম শহরে জশনে জুলুস শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাকিবুল ইসলাম (১৮), হাবিব (১৭) এবং রাহাত (১৭) নামের তিন কিশোর মজিবুরের পথরোধ করে। তারা নেশার প্রভাবে মজিবুরকে তাদের সঙ্গে নেশাদ্রব্য গ্রহণের জন্য চাপ দেয়। মজিবুর তাদের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রাকিবুল হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে মজিবুরের বুক, ঘাড় এবং হাতে একাধিকবার আঘাত করে। এতে মজিবুর গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় মো. বোরহান তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরও অভিযুক্তরা মজিবুরের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবারটি আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, "অভিযোগ হাতে পেয়েছি। আমরা তদন্ত শুরু করেছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এই ঘটনাটি কিশোর অপরাধের একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত, যা স্থানীয় সমাজকে নাড়া দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজকর্মীরা এ ধরনের অপরাধ রোধে সচেষ্ট হচ্ছেন। কিশোরদের মধ্যে নেশার প্রভাব এবং এর থেকে উদ্ভূত সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
এ ।