বাংলাদেশের সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চিঠিতে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে বেগম জিয়ার আদর্শ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করতে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তারেক রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শোকবার্তা পৌঁছে দেন।
‘প্রিয় তারেক রহমান সাহেব’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ‘প্রিয় তারেক রহমান সাহেব’ সম্বোধন করে মোদি চিঠিতে লেখেন, ‘‘আপনার মাতা, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মাননীয়া বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আপনার এই অপূরণীয় ব্যক্তিগত ক্ষতিতে আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। তাঁর আত্মা চিরশান্তিতে বিরাজ করুক’’।
২০১৫ সালের স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধা চিঠিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে ‘সংকল্প ও আদর্শনিষ্ঠায় বিরল এক নেত্রী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি লেখেন, ‘‘২০১৫ সালের জুন মাসে ঢাকায় বেগম সাহিবার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ও আলোচনার কথা আমি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্মরণ করি। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জনকারী এক বিরল নেত্রী। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন’’।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন পথচলার প্রত্যাশা নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর আস্থা প্রকাশ করে লেখেন, ‘‘তাঁর প্রয়াণ এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করলেও তাঁর আদর্শ ও উত্তরাধিকার চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। আমি নিশ্চিত যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আপনার যোগ্য নেতৃত্বে তাঁর সেই আদর্শগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তা এক নতুন পথচলা নিশ্চিত করতে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে’’।
বাংলাদেশের জনগণের প্রতি বার্তা শোকের এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে মোদি লেখেন, ‘‘যারা ইতিহাসে বরাবরই তাদের অসাধারণ শৌর্য ও মর্যাদার পরিচয় দিয়েছে, আমি নিশ্চিত যে, তারা তাদের অভিন্ন মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় ঐক্যের বোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাবে’’।
চিঠির শেষে তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য শুভকামনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বেগম খালেদা জিয়া। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তাৎক্ষণিক শোক জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি।



















