লখনউ উত্তাল, অভিনব ছাত্র বিক্ষোভে কাঁপছে শাসক জনতা পার্টি..
লখনউ উত্তাল, অভিনব ছাত্র বিক্ষোভে কাঁপছে শাসক জনতা পার্টি..
বিবরণী: ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভে চাকরির দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে শত শত ছাত্র-ছাত্রী রাজপথে নেমে আসে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানায় তাদের এই অভিনব প্রতিবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল শাসকগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে দেওয়া এক বিদ্রূপাত্মক নামকরণ, যা তাদের দৃষ্টিতে শাসক দলের অবাঞ্ছিত ও অনড় উপস্থিতিকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে এই প্রতিবাদের মূল সুর ছিল শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভে শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী তারা মিছিল করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবরোধ সৃষ্টি করে, যার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয় শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি, পরীক্ষা পদ্ধতিতে দুর্নীতি এবং সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয় 'জনতা পার্টি' নামাঙ্কিত শাসকদলের প্রতি তাদের ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট তারা অভিযোগ করে যে, এই সরকার জনগণের প্রকৃত চাহিদা পূরণে ব্যর্থ এবং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত কীট-এর মতোই দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে জেঁকে বসে আছে, যাকে সহজে সরানো যাচ্ছে না এই ব্যঙ্গাত্মক তুলনা শাসকগোষ্ঠীর প্রতি তাদের গভীর অনাস্থা এবং হতাশারই প্রতিচ্ছবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হলেও, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় ছিল শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় দীর্ঘদিন ধরে উত্তর প্রদেশের ছাত্রসমাজ বেকারত্ব, চাকরির অভাব এবং শিক্ষা খাতে দুর্নীতির কারণে ভুগছে সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে কোভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে, যার ফলে স্নাতক ডিগ্রিধারীরাও বেকারত্বের অভিশাপে ভুগছে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে সরকারি শূন্যপদ পূরণ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরীক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা নীতিতে বাস্তবসম্মত সংস্কার আনার দাবি জানাচ্ছে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দাবি মানা না হলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে এবং বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে লখনউয়ের এই ছাত্রবিক্ষোভ কেবল উত্তর প্রদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি ভারতের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে তরুণ সমাজের অসন্তোষ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে তা ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে এই প্রতিবাদ সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে, যা সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভকে উপেক্ষা করলে তা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এই আন্দোলন প্রমাণ করে যে, তরুণ প্রজন্ম তাদের অধিকার আদায়ে বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনে তারা রাজপথে নেমে আসতেও দ্বিধা করবে না, যা যেকোনো সরকারের জন্যই চিন্তার কারণ [সৌজন্যে: @cjp_for_india (𝕏 (Twitter))]