জীবন রক্ষায় রাজনীতি? নড্ডার সমালোচনায় অভিজিৎ দীপক
জীবন রক্ষায় রাজনীতি? নড্ডার সমালোচনায় অভিজিৎ দীপক
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা’র শিক্ষার্থী আন্দোলনকে ঘিরে দেওয়া বক্তব্যের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপক তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি রাজনীতি এতই অপছন্দের হয়, তবে কেন জেপি নাড্ডা রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন না? অভিজিৎ দীপকের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো যখন নির্বাচন ও ভোটের জন্য জনসভা করে, তখন এটি রাজনীতির অংশ কিন্তু যখন শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ন্যায়বিচার চাওয়া হয়, তখন তা কেন রাজনীতির অপব্যবহার হিসেবে দেখা হবে? তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে অভিজিৎ দীপকের এই উক্তি মূলত জেপি নাড্ডা’র সমালোচনার জবাবে এসেছে, যিনি বিরোধী দলগুলোকে শিক্ষার্থী আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন নাড্ডা’র এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিজিৎ দীপক মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা এবং তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকা নির্বাচন এবং ভোট প্রার্থনা যদি রাজনীতির অংশ হয়, তবে শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার চেয়ে আন্দোলনকেও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ হিসেবে দেখা উচিত তাঁর প্রশ্ন, তাহলে কেন শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবিকে রাজনীতির অপব্যবহার বলা হবে? শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার আদায়ে আন্দোলনকে রাজনীতির অপব্যবহার আখ্যা দেওয়াকে অভিজিৎ দীপক প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যখন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থে, যেমন - ভোট বা জনসমর্থন আদায়ের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তখন সেটি স্বাভাবিক কিন্তু সমাজের একটি অংশ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যখন তাদের অধিকারের জন্য, কোনো অন্যায় বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তখন সেই আন্দোলনকে ভিন্ন চোখে দেখা বা সেটিকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা বলে দেগে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয় তিনি বলেন, আমরা শিশুদের জন্য ন্যায়বিচার চাইছি, যা কোনো রাজনৈতিক ফায়দার বিষয় নয়, বরং এটি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ অভিজিৎ দীপকের এই বক্তব্য ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রায়শই দেখা যায়, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে যখন সাধারণ মানুষ বা শিক্ষার্থীরা সোচ্চার হন, তখন সরকার বা ক্ষমতাসীন দলগুলো এটিকে নিজেদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে অভিজিৎ দীপক এই ধারার সমালোচনা করে বলেছেন, রাজনৈতিক নেতাদের উচিত জনকল্যাণ ও ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোকে দলগত রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে দেখা যখন সাধারণ নাগরিক, বিশেষত শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকারের জন্য পথে নামেন, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো বা তাদের দাবিগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা রাজনৈতিক দলগুলোর কর্তব্য রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, বরং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমও বটে [সৌজন্যে: @newsarenaindia (𝕏 (Twitter))]