দিল্লি: প্রতিবাদস্থলে ফেসিয়াল স্ক্যান; নজরদারির ফাঁদে আন্দোলনকারীরা..
দিল্লি: প্রতিবাদস্থলে ফেসিয়াল স্ক্যান; নজরদারির ফাঁদে আন্দোলনকারীরা..
ভারতের রাজধানী দিল্লির অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তর এখন নতুন এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অভিযোগ উঠেছে, দিল্লি পুলিশ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের লাইভ স্ক্যান করার জন্য ফেসিয়াল রিকগনিশন ভ্যান (মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি সম্বলিত গাড়ি) মোতায়েন করেছে এর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ব্যক্তিগত উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রতিবাদকারীরা বলছেন, এর ফলে যন্তর মন্তর একটি খোলা আকাশের নিচের ডিজিটাল কারাগারে পরিণত হচ্ছে, যেখানে প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে এই ঘটনা গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতার ওপর এক নতুন আঘাত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ ভ্যানগুলি প্রতিবাদস্থলের আশেপাশে অবস্থান করছে এবং তাতে বসানো শক্তিশালী ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিড়ের মধ্যে থাকা প্রতিটি ব্যক্তির মুখ স্ক্যান করে ডেটা সংগ্রহ করছে এই প্রযুক্তির সাহায্যে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তির পরিচিতি, পূর্বের কার্যকলাপ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করা সম্ভব অধিকারকর্মীরা বলছেন, কোনো রকম সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি বা আদালতের নির্দেশ ছাড়াই প্রতিবাদকারীদের উপর এমন নজরদারি চালানো হচ্ছে, যা ভারতের সংবিধান প্রদত্ত প্রতিবাদের অধিকার এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের পরিপন্থী এটি ভিন্নমত দমনের একটি কৌশল এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পরিবেশকে নষ্ট করার একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের প্রযুক্তিগত নজরদারি ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিতকরণ, তাদের উপর চাপ সৃষ্টি এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে একবার সংগৃহীত বায়োমেট্রিক ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকিও প্রকট কোন পরিস্থিতিতে, কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কীভাবে তা সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি এটি শুধু যন্তর মন্তরের নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশজুড়ে নাগরিক অধিকার এবং নজরদারির মাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে এই ধরনের নজরদারি বন্ধের দাবি জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান চেয়েছেন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ একটি মৌলিক অধিকার কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহার করে যখন সেই প্রতিবাদের প্রতিটি মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দী ও বিশ্লেষণ করা হয়, তখন তা জনগণের মনে ভীতির সঞ্চার করে 'ডিজিটাল খোলা কারাগার'-এর এই ধারণাটি বর্তমান যুগে নজরদারিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে দিল্লি পুলিশের এই কৌশল নাগরিকদের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে যে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা কি সত্যিই অবশিষ্ট থাকবে, নাকি প্রতিটি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর এখন প্রযুক্তির চোখে ধরা পড়বে এবং তার পরিণতি ভোগ করতে হবে? এই ঘটনা ভারতে নাগরিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিসরের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার সমাধান জরুরি [সৌজন্যে: @cockroachisback (𝕏 (Twitter))]