চাঁদপুরে জাটকা নিধনের দায়ে ১৪ জেলে কারাগারে: নৌ-পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল কারেন্ট জাল ও নৌকা জব্দ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরে জাটকা নিধনের দায়ে ১৪ জেলে কারাগারে: নৌ-পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল কারেন্ট জাল ও নৌকা জব্দ..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরে জাটকা নিধনের দায়ে ১৪ জেলে কারাগারে: নৌ-পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল কারেন্ট জাল ও নৌকা জব্দ..
চাঁদপুরে জাটকা নিধনের দায়ে ১৪ জেলে কারাগারে: নৌ-পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল কারেন্ট জাল ও নৌকা জব্দ..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৫ জেলেকে আটকের পর ১৪ জনের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, জব্দ করা হয়েছে অবৈধ কারেন্ট জাল ও জাটকা।..

গত ২৫ অক্টোবর রাতে চাঁদপুর সদর নৌ-থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে ২৫ জন জেলেকে অবৈধভাবে জাটকা আহরণের সময় হাতেনাতে আটক করে। অভিযানের সময় আইন অমান্যকারী জেলেদের কাছ থেকে ২ মণ জাটকা ইলিশ, ১১ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং ৫টি নৌকা জব্দ করা হয়। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকারের চলমান কঠোর নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে একটি চক্র রাতের অন্ধকারে নদীতে সক্রিয় হওয়ার খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ এই তৎপরতা চালায়। আটককৃতদের মধ্যে ১১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও, প্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত জাটকাগুলো পরবর্তীতে স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মানবিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আটককৃত ১৪ জেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে চাঁদপুর সদর ও শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বাসিন্দা রয়েছেন। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, জীবিকার সংকীর্ণতা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব থাকায় অনেক সময় তারা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করতে বাধ্য হন। তবে নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, জাটকা ইলিশের প্রজনন ও বড় হওয়ার সুযোগ না দিলে অদূর ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। অভিযানে আটক হওয়া জেলেদের মধ্যে মো. রসুল আমিন মোল্লা, মো. ফারুক হাওলাদার, মো. তাফাজ্জল গাজী, মো. আসাদ গাজীসহ অন্যরা দীর্ঘদিন ধরে আইন অমান্য করে নদীর পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। নদী কেন্দ্রিক অর্থনীতিতে এসব জেলেদের সম্পৃক্ততা থাকলেও, তাদের এই বেআইনি কর্মকাণ্ড সামগ্রিক মৎস্য ভাণ্ডারকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যা স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অভিযানের বিষয়ে চাঁদপুর সদর নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজমগীর হোসাইন জানান, জাটকা সংরক্ষণ এবং মা ইলিশ রক্ষায় নৌ-পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী নমনীয়তা দেখানো হলেও প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মৎস্য আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং জব্দকৃত সরঞ্জাম ধ্বংস করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জোর দিয়ে বলেন যে, অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ এবং জাটকা সংরক্ষণে নৌ-পুলিশের নজরদারি ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো সত্ত্বেও এক শ্রেণির অসাধু জেলেদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা এবং তারা মনে করছেন, কেবল অভিযান নয়, বরং কঠোর শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপনই এই সংকট নিরসনের একমাত্র উপায়।

এই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদপুর অঞ্চলের নদীপথে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, জাটকা নিধন রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা এখন স্পষ্ট। অসাধু চক্রের নেটওয়ার্ক ভাঙতে না পারলে এবং জেলেদের বিকল্প আয়ের নিশ্চয়তা দিতে না পারলে এই ধরণের অভিযান কেবল সাময়িক স্বস্তিই বয়ে আনবে। নদী ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মৎস্য আইনের সঠিক প্রয়োগই পারে ইলিশের উৎপাদন নিরাপদ রাখতে। চাঁদপুর নৌ-পুলিশের চলমান এই অভিযান সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিলেও, ভবিষ্যতে নদীপথের নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয় আরও গভীর করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator