ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে হত্যা: দেবহাটায় দলীয় পরিচয়ের আড়ালে আসামিরা, অভিযোগ স্বজনদের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে হত্যা: দেবহাটায় দলীয় পরিচয়ের আড়ালে আসামিরা, অভিযোগ স্বজনদের..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে হত্যা: দেবহাটায় দলীয় পরিচয়ের আড়ালে আসামিরা, অভিযোগ স্বজনদের..
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে হত্যা: দেবহাটায় দলীয় পরিচয়ের আড়ালে আসামিরা, অভিযোগ স্বজনদের..
ছবি: সংগৃহীত
দলীয় পরিচয়ের আড়ালে আসামিদের রক্ষার চেষ্টা, অভিযোগ নিহতের স্বজনদের; ভিডিও ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত করছে পুলিশ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে মব সৃষ্টি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তারের পর ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও নতুন করে আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এদিকে, ঘটনার আগে অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে দেওয়া এবং বাড়ি, ক্লিনিক ও হাসপাতালে হামলার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অজ্ঞাতনামা আসামিদের মধ্যে আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামে নিহত ওয়াহেদুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি ও স্থানীয়দের বক্তব্য থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাড়িতে হামলার পরদিন ১৪ অক্টোবর কুলিয়া বাজারের ডা. এমএ সবুরের ক্লিনিক ও সখীপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদুজ্জামানের ওপর হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এবং ঘটনার আগে ধারণ করা অডিও রেকর্ডের সূত্র ধরে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী আবুল কাশেমের বাড়ির জানালার সঙ্গে ওয়াহেদুজ্জামানের বসতঘরের জানালার দূরত্ব আনুমানিক চার থেকে পাঁচ হাত। স্থানীয়দের মতে, এ অবস্থানে এক বাড়ির কথাবার্তা অন্য বাড়ি থেকে শোনা বা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা সম্ভব।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে স্ত্রী নাজমা খাতুনের সঙ্গে ওয়াহেদুজ্জামানের বিরোধের পর প্রতিবেশী বাড়ির জানালা থেকে তাঁকে উসকানিমূলক কথা বলতে প্ররোচিত করে অডিও রেকর্ড করা হয়। পরে ওই রেকর্ড পারুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি কামরুল গাজীর কাছে পৌঁছানো হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানো হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি সাদিকুল ইসলাম, মোক্তার হোসেন খান, ইয়াছিন আলী, আসাদুল ইসলামসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন। তাঁদের অভিযোগ, কামরুল গাজীর নেতৃত্বে একদল লোক ওয়াহেদুজ্জামানের বাড়ির কলাপসিবল গেট ভাঙচুর করে।

পরবর্তীতে কুলিয়া বাজারের ডা. এমএ সবুরের ক্লিনিক ও সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াহেদুজ্জামানের ওপর হামলার ঘটনায় ফজলুল হক আমিনী, সাদিকুল ইসলাম ভদো ও মাসুদ আল আযমসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

নিহতের পরিবারের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম-পরিচয় পাওয়া গেলেও তাঁদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার এড়াতে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীসহ অভিযুক্তদের পক্ষে প্রচার চালিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

তবে কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় বা পদ-পদবি কারও অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।


মামলার বাদী আব্দুল জলিল বলেন, ১৮ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন করে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাঁর দাবি, ভাই ওয়াহেদুজ্জামান হত্যার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় তাঁরা জানতে পেরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের পক্ষে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, মামলাটি স্পর্শকাতর। ভিডিও ফুটেজ যাচাই, মোবাইল ফোনের সূত্র অনুসন্ধান এবং হামলার সময় উপস্থিত ব্যক্তি, পুলিশ সদস্য ও আনসার সদস্যদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। সম্ভাব্য আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যের সত্যতা যাচাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী না করে প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

לא נמצאו הערות


News Card Generator