ধামইরহাটে সাত কৃষকের ৩.১৭ একর জমিতে স্প্রে করে ফসল নষ্টের অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ধামইরহাটে সাত কৃষকের ৩.১৭ একর জমিতে স্প্রে করে ফসল নষ্টের অভিযোগ..

মো. রিফাতুল হাসান চৌধুরী (সৈকত) avatar   
মো. রিফাতুল হাসান চৌধুরী (সৈকত)
ধামইরহাটে সাত কৃষকের ৩.১৭ একর জমিতে স্প্রে করে ফসল নষ্টের অভিযোগ..
ধামইরহাটে সাত কৃষকের ৩.১৭ একর জমিতে স্প্রে করে ফসল নষ্টের অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর ধামইরহাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাত কৃষকের ৩ দশমিক ১৭ একর জমির আমন ধান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।..

ক্ষতিকারক রাসায়নিক স্প্রে করে ধান নষ্ট করায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা। এ ঘটনায় সাতজনকে অভিযুক্ত করে ধামইরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কৃষক চানমদ্দীন ও তাঁর শরিকেরা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার রূপনারায়ণপুর মৌজার সংশ্লিষ্ট জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায় একদল সাংবাদিক।

চানমদ্দীনের থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, গত ২০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন ওই জমিতে রাসায়নিক স্প্রে করেন। এ সময় স্থানীয় মিজানুর রহমান ঘটনাটি দেখে ফেললে তাঁকে ধাওয়া করা হয়। প্রাণভয়ে তিনি জমিতে লুকিয়ে পড়েন এবং পরে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগে তিনি আরো জানান, পরদিন সকালে মিজানুর রহমান ঘটনাটি জমির মালিক চানমদ্দীনকে জানান। পরে চানমদ্দীন জমিতে গিয়ে ধানের গাছ বিবর্ণ হয়ে যেতে দেখেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, রাসায়নিক স্প্রে করার কারণে জমির ধান নষ্ট হয়ে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অভিযোগকারী চানমদ্দীন ধামইরহাট উপজেলার রূপনারায়ণপুর (নিকেশ্বর) গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে। তাঁর দাবি, তিনি ও অপর ছয় কৃষক—মামুন হোসেন, আমিনুল ইসলাম, রিয়াজ উদ্দিন, মিজানুর রহমান, মাসুদ হোসেন ও মোমিন—রূপনারায়ণপুর মৌজায় ক্রয়সূত্রে পাওয়া ৩ দশমিক ১৭ একর জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। চলতি আমন মৌসুমে ওই জমিতে যথারীতি ধান রোপণ করেন তাঁরা।

চানমদ্দীনের দায়ের করা অভিযোগে একই গ্রামের সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নাসির উদ্দিনের ছেলে ওবায়দুল ইসলাম, এন্দাদুল ওরফে বিপ্লব, বাবু, সাবু, মুজাই, মুজাইয়ের ছেলে মোমিন এবং খোকার ছেলে জিয়ারুল ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই তাঁদের ধানখেতে রাসায়নিক স্প্রে করে ফসলের ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।

অভিযোগকারী চানমদ্দীন জানান, এর আগেও তাঁদের জমির আলু ও সরিষা নষ্ট করার অভিযোগে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ হয়েছিল। ওই ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তের পর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে প্রতিপক্ষের লোকজন দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাঁদের জরিমানা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ১ নম্বর ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ টি এম বদিউল আলম বলেন, চানমদ্দীনের মামলায় বিপ্লব গং সাক্ষ্যপ্রমাণে দোষী হওয়ায় তাদের জরিমানা করা হয়েছিল। সম্প্রতি ধান পুড়িয়ে মারার ঘটনায় বিপ্লব গংকে চানমদ্দীনের সন্দেহ করাটা অমূলক নয়।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিপ্লব মুঠোফোনে জানান, জমি-জমা নিয়ে আমাদেরকে চানমদ্দীন গং হয়রানি করছে এবং তাদের সঙ্গে আমাদের মামলা ও শত্রুতা রয়েছে। জমিটির দাবিদার আমরাই। তারা আমাদের জমিতে জোর করে ধান লাগিয়েছে। চানমদ্দীন গং আমাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমরা কারও জমিতে স্প্রে করিনি, তারা আমাদের হয়রানি করতে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান বলেন, কেউ সম্পত্তির আইনগত বৈধ মালিক হলে সে ফসল দাবি করতেই পারে, কিন্তু কারও ফসল ধ্বংস করা ফৌজদারি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। বাদীর অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একদিকে সাত কৃষকের ধান নষ্ট করে সাড়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ, অন্যদিকে জমির মালিকানা নিজেদের দাবি করে অভিযুক্ত পক্ষের অভিযোগ অস্বীকার—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিসাধনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য, জমিটি তাঁদের এবং তাঁরা কোনো ফসল নষ্ট করেননি।
এখন জমির দলিল ও খতিয়ান, ধানখেতের ক্ষয়ক্ষতি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা জরুরি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator