পুরান ঢাকার চকবাজারে বহুতল মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পুরান ঢাকার চকবাজারে বহুতল মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
পুরান ঢাকার চকবাজারে বহুতল মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট..
পুরান ঢাকার চকবাজারে বহুতল মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট..
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর চকবাজারের মনজুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ ইউনিট কাজ করছে, তবে ঘন ধোঁয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।..

রাজধানীর ঘিঞ্জি এলাকা হিসেবে পরিচিত চকবাজারের এসি মসজিদের পাশের গলিতে অবস্থিত মনজুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলায় সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সাততলা বিশিষ্ট এই বাণিজ্যিক ভবনের ওপরের তলায় আগুন লাগার খবর পেয়েই ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। মূলত ঘনবসতিপূর্ণ এবং সরু রাস্তা হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো প্রবেশ করতে বেগ পেতে হচ্ছে, যা প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে বহুতল ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার পর্যাপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ বা সূত্রপাত সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ভবনটির বাণিজ্যিক ঘনত্বের কারণে আগুনের বিস্তার দ্রুত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চকবাজারের অধিকাংশ ভবনেই কোনো ধরনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই এবং সরু গলির কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দল সময়মতো পৌঁছাতে পারে না। ভবনটির ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত মার্কেটের মালামাল ও দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণে ধোঁয়ার তীব্রতা এতটাই বেশি যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং অবৈধভাবে মালামাল মজুত রাখার প্রবণতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ধোঁয়ার কারণে দমবন্ধ পরিস্থিতিতে আশপাশের ভবনের মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করছেন, যা উদ্ধার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগুনের উৎস চিহ্নিত করার আগেই ধোঁয়া পুরো তলা দখল করে নেওয়ায় মালামাল উদ্ধারের কোনো সুযোগ মেলেনি, ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই পাঁচটি ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ঘন ধোঁয়া এবং ভবনের ভেতরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকায় অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের চরম ঝুঁকির মুখে কাজ করতে হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তবে বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য আগুন পুরোপুরি নেভানো এবং ভেতরে কেউ আটকা পড়ে আছে কি না তা নিশ্চিত করা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ ভিড় করে উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত না ঘটায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিনির্বাপণ শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা সম্ভব হবে।

চকবাজারের মতো জনবহুল এলাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে এবং এটি নগর পরিকল্পনার ভয়াবহ ত্রুটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যদি অবিলম্বে এই এলাকাগুলোতে কঠোর তদারকি এবং অগ্নি নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি এড়ানো অসম্ভব হবে। এই অগ্নিকাণ্ড কেবল একটি ভবনের ক্ষতি নয়, বরং পুরান ঢাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ভবনটির কাঠামো ও অগ্নিনির্বাপণ সনদ পরীক্ষা করা জরুরি, যাতে করে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

Nema komentara


News Card Generator