শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ডের কাজ, যেভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে তথ্য.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ডের কাজ, যেভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে তথ্য..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ডের কাজ, যেভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে তথ্য..
শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ডের কাজ, যেভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে তথ্য..
ছবি: সংগৃহীত
নারীপ্রধান পরিবারের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে, যার আওতায় ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত..

সরকার দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরি করা। মূলত নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ১২ অক্টোবর রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই তথ্য জানান। এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন, যারা বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে তথ্য যুক্ত করছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অতিদরিদ্র থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারকে পাঁচটি নির্দিষ্ট কোয়ান্টাইলে বিভক্ত করা হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারের যেকোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রক্সি মিন্স টেস্ট বা পিএমটি পদ্ধতিকে মূল মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম স্কোরধারী নারী পরিবারপ্রধানরাই মূলত ভাতার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। গত মার্চ মাসে শুরু হওয়া পাইলটিং কার্যক্রমে দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই মূল কার্যক্রমটি সাজানো হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের এই তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদানই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের প্রকৃত আয় বা সম্পদ গোপন করার প্রবণতা দেখা যায়, যা পিএমটি স্কোরের নির্ভুলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার তথ্য সংগ্রহকারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ডেটা এন্ট্রির ব্যবস্থা করেছে। উপকারভোগীদের অভিযোগ বা বঞ্চনা কমাতে এই ডিজিটাল পদ্ধতি কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার অবকাশ রয়েছে।

কর্মসূচিটির বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে, যার বড় একটি অংশ অর্থাৎ ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড এবং এনএফসি প্রযুক্তির ব্যবহার কার্ডের নিরাপত্তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এই কার্ড সরাসরি সরকারের টাকাপের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সহজেই ভাতার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার স্থাপন এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রান্তিক পর্যায়ে এই ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েই যায়, যার সমাধান হিসেবে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

ফ্যামিলি কার্ডের এই উদ্যোগ দেশের সামাজিক সুরক্ষা খাতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী পরিবারপ্রধানদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার যে লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছে, তার সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে তথ্যের সঠিক যাচাই-বাছাই ও স্বচ্ছ বিতরণের ওপর। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতার আওতায় আনার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা সফল হলে দারিদ্র্য বিমোচনে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে এই প্রকল্পের স্থায়িত্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তালিকা প্রণয়নই এখন মূল বিবেচ্য বিষয়। যদি সঠিক উপায়ে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে এই বিশাল ডেটাবেজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি সমন্বিত ও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator