নগর জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নগর জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
নগর জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর..
নগর জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর..
ছবি: সংগৃহীত
নগর জনস্বাস্থ্য রক্ষায় চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর ..

নগর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্টের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি কমিয়ে দ্রুত ফলাফল নিশ্চিত করার ওপর জোরারোপ করেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বদানকারী ক্রিস্টোফ লেমিয়েরের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় প্রতিমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও তারাব পৌরসভার জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতে গৃহীত উদ্যোগগুলোর বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। মশক ও বাহকবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ, বায়ু ও শব্দদূষণ রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নগরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় থাকা মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের বিষয়টিকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে জনবহুল ঢাকা শহরের দুই সিটি করপোরেশনে চিকিৎসা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা যে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ভুক্তভোগী নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত বর্জ্য অপসারণ ও দূষণজনিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্য সেবার মানকে ব্যাহত করছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্পষ্ট করেছেন যে, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ছাড়া নগরের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অসম্ভব। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য পৃথক দুটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়াকে আরও বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কারিগরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিশ্চিত করেছেন যে, প্রকল্প বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে মন্ত্রণালয় পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতিনির্ধারক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত থেকে চলমান কাজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন এবং কাজের মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তবে এই প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়ন কেবল পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিশেষে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা গেলে তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যান্য পৌরসভা ও নগর এলাকায় জনস্বাস্থ্য মডেল হিসেবে কাজ করবে। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের এই যৌথ উদ্যোগ কত দ্রুত কার্যকর রূপ পায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। কার্যকর নজরদারি ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল এই প্রকল্পগুলোর সুফল নগরবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য খাতে একটি ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

Nema komentara


News Card Generator