আসন্ন দুর্গাপূজায় জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে থাকছে না ছুটির সুবিধা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আসন্ন দুর্গাপূজায় জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে থাকছে না ছুটির সুবিধা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আসন্ন দুর্গাপূজায় জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে থাকছে না ছুটির সুবিধা..
আসন্ন দুর্গাপূজায় জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে থাকছে না ছুটির সুবিধা..
ছবি: সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলেও জরুরি সেবায় নিয়োজিত খাতগুলোকে এই নির্দেশনার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।..

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে সরকার আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে সরকারি ক্যালেন্ডারে এই তিন দিন ছুটি থাকলেও জাতীয় জনস্বার্থ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জরুরি পরিষেবাগুলোকে এই ছুটির আওতা থেকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা সেবা, টেলিফোন ও ইন্টারনেট এবং ডাক সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো স্বাভাবিক নিয়মে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ছুটির এই সমন্বয় সাধনের জন্য আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য এই সিদ্ধান্তটি বাড়তি কর্মচাপ ও দায়িত্ববোধের বার্তা বয়ে আনছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাত, যেখানে চিকিৎসক, নার্স এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী কর্মীদের সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকা অপরিহার্য, সেখানে ছুটির দিনেও তাদের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা পালন করতে হবে। ভুক্তভোগী পর্যায়ের কর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত উৎসবের আমেজেও জরুরি সেবার দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, যা মূলত জননিরাপত্তা ও সংকটকালীন সেবা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা। ওষুধ সরবরাহ ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহনগুলোর চলাচল স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে সরকার মূলত দুর্যোগ বা জরুরি প্রয়োজনে যাতে সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই সেবা বঞ্চিত না হয়, সেই বিষয়টিই নিশ্চিত করতে চেয়েছে। এই কাঠামোগত নির্দেশনার ফলে জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের উৎসবের দিনেও তাদের কর্মস্থলে পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় থাকতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করবে এবং আদালতের কার্যক্রমের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা প্রদান করবেন। বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। এই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সরকার মূলত প্রতিটি খাতের বিশেষ চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেছে। জরুরি সেবার সাথে সম্পৃক্ত অফিসগুলোতে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই, বরং এই সময়ে সেবার মান ও গতি বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার বিষয়টিও প্রজ্ঞাপনের মূল সুর হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর এই সমন্বিত উদ্যোগ মূলত নাগরিক জীবনের স্বাভাবিক ছন্দপতন রোধে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।

সামগ্রিকভাবে, দুর্গাপূজার ছুটির এই বিশেষ প্রজ্ঞাপনটি পরিবহন ব্যবস্থা, শিল্প উৎপাদন এবং জরুরি জনসেবার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরির প্রয়াস। উৎসবের আমেজেও জরুরি সেবার কর্মীরা যে দায়িত্বের প্রতি অবিচল থাকছেন, তা দেশের অবকাঠামোগত স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে শ্রম আইনের প্রয়োগ কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার অবকাশ রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সরকারি ছুটির সমন্বয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে সেবার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের আরও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই ছুটির ঘোষণা ও এর আওতাবহির্ভূত জরুরি পরিষেবার বিষয়টি মূলত নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের একটি আপসহীন অবস্থানের প্রতিফলন।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator