প্রবাসী ভোটাধিকার নিশ্চিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নিতে ঢাকায় নেপালের নির্বাচন কমিশনার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

প্রবাসী ভোটাধিকার নিশ্চিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নিতে ঢাকায় নেপালের নির্বাচন কমিশনার..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রবাসী ভোটাধিকার নিশ্চিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নিতে ঢাকায় নেপালের নির্বাচন কমিশনার..
প্রবাসী ভোটাধিকার নিশ্চিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নিতে ঢাকায় নেপালের নির্বাচন কমিশনার..
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের গৃহীত ওসসিভি-এসডিআই প্রকল্পের কার্যকারিতা ও কৌশল সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছে নেপালের নির্বাচন কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্..

প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের গৃহীত উদ্যোগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে নেপালের নির্বাচন কমিশনের দুজন কমিশনারসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকায় পৌঁছেছেন। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপি’র ব্যবস্থাপনায় দুই দিনব্যাপী এই লার্নিং অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামটি বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে শুরু হয়েছে। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন দেশের বাইরে ভোটদান সিস্টেম উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন বা ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের কারিগরি ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, যেখানে নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নেপালের প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করছেন। মূলত প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ যে ডিজিটাল ও আইনি কাঠামো তৈরি করেছে, তা নেপালের নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সফরের প্রথম দিনে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায় ও এর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নেপালের প্রতিনিধি দলটি বিশেষ করে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন, তাদের পরিচয় যাচাইকরণ এবং ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে কীভাবে ব্যালট বা ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভুক্তভোগী প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নিজ দেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার, যা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বর্তমানে যে কারিগরি উৎকর্ষ অর্জন করেছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। নেপালের প্রতিনিধি দল এই প্রকল্পের কারিগরি সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তার দিকগুলো খতিয়ে দেখছেন, যাতে তাদের দেশেও অনুরূপ কোনো সিস্টেম প্রবর্তন করা সম্ভব হয়। ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের টিম লিডার এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন, যা প্রবাসীদের আস্থার জায়গাটিকে আরও সুসংহত করবে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও পেশাগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং ইউএনডিপির যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি দিক, যেমন ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা, অনলাইন ভোটিং পদ্ধতি এবং ভোটার ভেরিফিকেশন প্রোটোকল নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রবাসী নাগরিকদের ভোটদানের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষা বলয় প্রয়োজন, যা বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে সফলভাবে গড়ে তুলেছে। নেপালের প্রতিনিধি দল এই লার্নিং অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে, তা তাদের দেশের নির্বাচনি সংস্কার ও প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রদানের পথকে সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউএনডিপির চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিশেষজ্ঞরাও এই আলোচনায় কারিগরি পরামর্শ প্রদান করছেন, যা দুই দেশের নির্বাচনি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

দুই দিনব্যাপী এই সফর শেষে নেপালের প্রতিনিধি দল তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা নিজ দেশে প্রয়োগের রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করবে। এই ধরনের আন্তঃদেশীয় অভিজ্ঞতা বিনিময় কেবল দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে না, বরং বৈশ্বিকভাবে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার যে প্রচেষ্টা চলছে, তাতে বাংলাদেশ একটি অগ্রগামী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে। দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসীরা নিজ দেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও বিস্তৃত করবে। নির্বাচনের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে বাংলাদেশের অর্জন করা এই সাফল্য ও প্রযুক্তিগত মডেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। আগামীতে এই ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আরও সহজতর হবে, যা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারের অধিকারকে আরও শক্তিশালী করবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator