কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে রাজাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেফতার দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক জুবায়ের রশিদ পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রিমান্ড আদেশ দেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসান উল্লাহ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমান আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে আদালত প্রথমে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আজ রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
যাঁদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে:
-
এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস (প্রিজনভ্যানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা)
-
নায়েক কামাল হোসেন (প্রিজনভ্যানের চালক)
-
তাসলিমা (পিচ্চি রাজার বোন)
ঘটনার নেপথ্য ও তদন্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য:
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে ২৯ জন বন্দি নিয়ে একটি প্রিজনভ্যান ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়। শুরুতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দাবি করেছিলেন যে, ভ্যানটি গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে শৌচকর্মের কথা বলে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান।
তবে পুলিশি তদন্তে সেই দাবির সত্যতা মেলেনি। তদন্তে বেড়িয়ে আসে যে, ঘটনাটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং টাকার বিনিময়ে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় এটি একটি সাজানো নাটক ছিল। পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় প্রিজনভ্যান থামিয়ে এসআই প্রবীরের সহযোগিতায় রাজাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে চালক নায়েক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে ইতোমধ্যে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি পিচ্চি রাজাকে গত ১৯ মে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পলায়নের পর থেকেই তাকে গ্রেফতারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।