মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে পৌঁছালে ১৫০ জন শিশু প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শিশুদের অধিকার সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাদের গুরুত্ব প্রদানের একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতি শিশুদের মেধা বিকাশ ও তাদের সুরক্ষিত বেড়ে ওঠার রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল শিশুদের বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং তাদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, যা প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করে। এছাড়া, শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি ঘুরে দেখার সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের সৃজনশীল কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানের স্মারক ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচনের পাশাপাশি দেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভুক্তভোগী ও অভিভাবক মহলের মতে, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেবল দিবস পালন যথেষ্ট নয়, বরং শিশু একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন যাতে প্রতিটি শিশু মানসম্মত সুযোগ-সুবিধা পায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিশুদের এই সরাসরি মিথস্ক্রিয়া তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি নীতি-নির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে শিশুদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু জাদুঘর ভবনের আধুনিকায়ন এবং সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগামীতে আরও যুগোপযোগী আইন ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে শিশুদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও সৃজনশীল শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানান। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, শিশু একাডেমিকে আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে শিশুদের জন্য একটি সমন্বিত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে তারা আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।
শিশু অধিকার দিবস ও সুবর্ণজয়ন্তীর এই আয়োজন দেশের পরিবহন ও সামাজিক খাতের মতোই শিশু উন্নয়ন খাতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে শিশুদের গড়ে তোলার একটি কৌশলগত দিকনির্দেশনা। শিশু একাডেমি ও সরকার যে যৌথ উদ্যোগের সূচনা করেছে, তা দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের প্রতি সহিংসতা হ্রাস এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজকের এই অনুষ্ঠানের প্রভাব আগামী দিনে জাতীয় শিক্ষানীতি ও শিশু সুরক্ষা নীতিমালার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে, যা দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত করবে।