৪৯তম বিসিএস: গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন পুনর্বিবেচনার আশ্বাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

৪৯তম বিসিএস: গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন পুনর্বিবেচনার আশ্বাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
৪৯তম বিসিএস: গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন পুনর্বিবেচনার আশ্বাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস..
৪৯তম বিসিএস: গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন পুনর্বিবেচনার আশ্বাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস..
ছবি: সংগৃহীত
৪৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটে নাম না থাকা প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যা ভুক্তভোগী প্রার্থীদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে।..

৪৯তম বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও গেজেট প্রজ্ঞাপনে নাম না থাকা ৫৭ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণে নতুন মোড় নিয়েছে। গত ১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক পরিচয় বা পূর্ববর্তী দলীয় সম্পৃক্ততার কারণে কোনো মেধাবী প্রার্থীর সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া হলেও এটি যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। মূলত, সুপারিশপ্রাপ্ত ৪৬ জন প্রার্থীর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া পুনরায় সম্পন্ন করে আগামী সোমবারের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আশ্বাসে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম হতাশাগ্রস্ত ও আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন, যিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাদ পড়ার আশঙ্কায় ভেঙে পড়েছিলেন, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আশ্বাসকে রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর আস্থা ফেরার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, ২০২২ সালের কমিটিতে ছাত্রলীগের পোস্টেড থাকা সত্ত্বেও জুলাই অভ্যুত্থানে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল, যার পর্যাপ্ত প্রমাণও তার কাছে রয়েছে। ভুক্তভোগী এই প্রার্থী বলেন, তার বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবা-মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে জবাবদিহি করার মতো অবস্থা ছিল না, যা তাকে আত্মাহুতির মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, যদি সোমবারের গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়, তবেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সিস্টেম ও মেধার মূল্যায়নের প্রতি তার হারানো বিশ্বাস পুনরায় পুনরুজ্জীবিত হবে। তার মতো অন্যান্য প্রার্থীরাও ভেরিফিকেশন নামক দীর্ঘমেয়াদী হয়রানি থেকে মুক্তি পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, প্রার্থীদের বাদ পড়ার নেপথ্যে থাকা অস্পষ্টতা দূর করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশাসনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) থেকে সুপারিশকৃত ৬৬৫ জনের তালিকার মধ্যে তিনজন প্রার্থীর প্রয়োজনীয় সনদ জমা না দেওয়া এবং আটজন প্রার্থীর মেডিকেল টেস্টে অনুপস্থিত থাকার কারণে প্রকৃত সংখ্যায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ফলে বিসিএস প্রত্যাশীদের মনে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি নিরপেক্ষভাবে ভেরিফিকেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়, তবে মেধার অবমূল্যায়ন হওয়ার ভয় আর থাকবে না। তবে ভুক্তভোগী প্রার্থীদের দাবি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় যেন ব্যক্তিগত আক্রোশ বা রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের কোনো প্রভাব না পড়ে, সেদিকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে।

পরিশেষে, বিসিএস নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হলে তা মেধাবীদের মধ্যে তীব্র হতাশা সৃষ্টি করে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল জসীম উদ্দীনের আত্মাহুতির হুমকির মাধ্যমে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সময়োপযোগী এই আশ্বাসের বাস্তবায়ন কেবল এই ৫৭ জন প্রার্থীর ভবিষ্যৎই রক্ষা করবে না, বরং সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। আগামী সোমবারের গেজেট প্রকাশই নির্ধারণ করবে সরকার তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে। সামগ্রিকভাবে, রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক পরিচয়মুক্ত মেধার জয়গান নিশ্চিত করাই এখন জনপ্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator