মাগুরায় বিদ্যুৎ বিলের ভুতুড়ে কারবার: ২০ ইউনিট ব্যবহারে ২৯ হাজার টাকা দাবি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মাগুরায় বিদ্যুৎ বিলের ভুতুড়ে কারবার: ২০ ইউনিট ব্যবহারে ২৯ হাজার টাকা দাবি..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মাগুরায় বিদ্যুৎ বিলের ভুতুড়ে কারবার: ২০ ইউনিট ব্যবহারে ২৯ হাজার টাকা দাবি..
মাগুরায় বিদ্যুৎ বিলের ভুতুড়ে কারবার: ২০ ইউনিট ব্যবহারে ২৯ হাজার টাকা দাবি..
ছবি: সংগৃহীত
মাগুরায় মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার অস্বাভাবিক বিল আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে, যা পল্লী বিদ্যুতের সেবার মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।..

মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামের বাসিন্দা বাবু মোল্যা গত কয়েক দিন ধরে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন। সাধারণত তার বসতবাড়িতে মাসিক বিদ্যুৎ বিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, সাম্প্রতিকতম বিলে তাকে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকা পরিশোধের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অথচ বিলের কাগজেই বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ২০ ইউনিট। একজন সাধারণ গ্রাহকের জন্য যা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। সাধারণত ২০ ইউনিটের বিপরীতে বিল হওয়ার কথা ছিল নামমাত্র, কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডিং ও বিল তৈরির প্রক্রিয়ায় এমন আকাশকুসুম ব্যবধানের ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগেই একই জেলায় ৫০৬ কোটি টাকার বিলের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল, যার রেশ না কাটতেই নতুন করে এই অস্বাভাবিক বিলের ঘটনা পল্লী বিদ্যুতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক অদক্ষতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

ভুক্তভোগী বাবু মোল্যা অভিযোগ করেছেন যে, এই ভুল বিল সংশোধনের জন্য তিনি যখন মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দপ্তরে যান, তখন তাকে যথাযথ সহায়তা করার পরিবর্তে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। তার ভাষ্যমতে, দপ্তরে প্রবেশের আগেই কর্মরত কিছু অসাধু ব্যক্তি বিল পেপার নিয়ে তাকে নানাভাবে হেনস্তা করেন এবং দায়িত্বশীল সমাধানের পরিবর্তে গড়িমসি শুরু করেন। গ্রাহকের অভিযোগ, মিটার রিডিং নেওয়ার সময় মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা সঠিক দায়িত্ব পালন না করায় এবং দাপ্তরিক কাজে চরম অবহেলার কারণেই এমন ভুতুড়ে বিল তৈরি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মতে, বারবার এ ধরনের ভুল কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হতে পারে না, বরং এটি মিটার রিডিংয়ে জালিয়াতি বা তথ্য এন্ট্রিতে চরম গাফিলতির বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও, কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বহীনতায় তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক চাপের শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম ফজলুল আনোয়ার জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তারা এটি খতিয়ে দেখছেন। তবে বারবার এমন অসংগতিপূর্ণ বিলের ঘটনা ঘটায় সচেতন মহল পল্লী বিদ্যুতের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এর আগে শালিখার আলেয়া খাতুনের নামে আসা ৫০৬ কোটি টাকার বিলের ঘটনায় চারজনকে শোকজ করা হলেও, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা বক্তব্য বা শোকজ দিয়েই যেন কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায়িত্ব শেষ না করে। বরং বিল তৈরির সফটওয়্যার, মিটার রিডিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এছাড়া এই ধরনের ভুতুড়ে বিলের পেছনে কোনো পরিকল্পিত জালিয়াতি বা অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পল্লী বিদ্যুতের সেবার মান নিয়ে ক্রমাগত এমন বিতর্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করছে। প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা বিদ্যুৎ খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং গ্রাহক পর্যায়ে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ধরনের ভুল সংশোধন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে গ্রাহক পর্যায়ে হয়রানি বাড়তেই থাকবে। বিদ্যুৎ সেবার মতো একটি অপরিহার্য খাতে এমন অসংগতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ডিজিটাল মিটার রিডিং ও বিলিং সিস্টেমকে ত্রুটিমুক্ত করা, যাতে সাধারণ গ্রাহকদের আর কখনোই এমন ভয়াবহ আর্থিক আতঙ্কের মুখোমুখি হতে না হয়।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator