জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের..
জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের..
ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর পরশুরামের মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।..

বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী-কহুয়া সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট গুপ্ত দল বা গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। এই গোষ্ঠীটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন কঠোর বার্তা প্রদান এটাই নির্দেশ করে যে, সরকার এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, এই সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফলে পুরো অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, যা বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী রাজনীতির অংশ।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হিসেবে মানুষের সেবা এবং দেশের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, খাল খনন, নদী ড্রেজিং, কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের মতো প্রতিটি উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রান্তিক কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী যখন ব্যক্তিগত বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সম্পদ ধ্বংস করে বা অরাজকতা সৃষ্টি করে, তখন তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। স্থানীয় পর্যায়ে যারা এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের সুফল তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এখন সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, আইন সবার জন্য সমান এবং অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি রাজনীতি করে দেশের কল্যাণের জন্য, আর যারা এর বিপরীতে গিয়ে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে নতুন করে আবাদের সুযোগ তৈরি হবে এবং অতিরিক্ত ১ লাখ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা জনগণের স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেন।

পরিশেষে, মুহুরী-কহুয়া সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের মতো উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং তা জনস্বার্থে যথাযথভাবে পরিচালিত হওয়া বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং উন্নয়নকে ধারাবাহিক রাখা একে অপরের পরিপূরক। প্রধানমন্ত্রী তারেকের এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বরং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। ভবিষ্যতে এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন কোনো রাজনৈতিক অরাজকতার শিকার না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও সুসংহত হবে। জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান পরিবহন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কৃষিখাত পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

نظری یافت نشد


News Card Generator