নেত্রকোনার মদনে পুলিশের পৃথক অভিযানে দুই জিআর পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নেত্রকোনার মদনে পুলিশের পৃথক অভিযানে দুই জিআর পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
নেত্রকোনার মদনে পুলিশের পৃথক অভিযানে দুই জিআর পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার..
নেত্রকোনার মদনে পুলিশের পৃথক অভিযানে দুই জিআর পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে হত্যাচেষ্টা, সরকারি কাজে বাধাসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা মোশাহিদ ও মো. জামাল ভূইয়া ওরফে জাপান নামের দুই পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রে..

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে দুই পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মোশাহিদ (২৮) উপজেলার ৩ নম্বর মদন ইউনিয়নের বারবুড়ী গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে এবং মো. জামাল ভূইয়া ওরফে জাপান (২৮) কুলিয়াটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত হেলিম ভূইয়ার ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, এই দুই আসামি দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন এবং মামলা দায়েরের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মদন থানা পুলিশের একটি দল সুকৌশলে অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে আটক করতে সক্ষম হয়, যা এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতার একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই ধরনের ঝটিকা অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মদন থানায় একাধিক গুরুতর অপরাধের সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে যা তাদের সামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গভীর চিত্র তুলে ধরে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোশাহিদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের শুরুতে মদন থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়, যেখানে তার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষকে আটকে রাখা, গুরুতর জখম করা, হত্যাচেষ্টা, চুরি সংঘটিত করা এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছিল। মামলাটি দায়েরের পর থেকেই তিনি জিআর পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। অন্যদিকে, মো. জামাল ভূইয়া ওরফে জাপানের বিরুদ্ধে চলতি বছরের জুন মাসের ৫ তারিখে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি দায়িত্ব পালনরত সরকারি কাজে সরাসরি বাধা প্রদান করেছেন এবং সরকারি কর্মচারীর ওপর শারীরিক আক্রমণ চালিয়েছেন। বলপ্রয়োগ করে গুরুতর জখম ও হত্যাচেষ্টার মতো মারাত্মক অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে তিনিও দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। এই ধরনের অপরাধীরা সমাজে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ালে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হয় এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থায় ফাটল ধরতে পারে, যা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

অভিযানের পর মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দীন করিম গণমাধ্যমকে জানান যে, সাধারণ মানুষের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আদালতের প্রতিটি পরোয়ানা যথাসময়ে তামিল করার লক্ষে থানা পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান সর্বদা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও জিআর পরোয়ানার ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। থানা সূত্রে আরও জানা গেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত উভয় আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোনা জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ ও আদালতের যৌথ ভূমিকা অত্যন্ত জোরালোভাবে কাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অপরাধ যত প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বারাই সংঘটিত হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলেই কেবল সমাজে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

মদন উপজেলায় এই দুই দুষ্কৃতকারী ও পলাতক আসামির গ্রেপ্তারের ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পুলিশের এই কার্যকর ভূমিকার কারণে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আইনের নাগালের বাইরে থাকা অপরাধীদের এভাবে একের পর এক গ্রেপ্তারের ফলে এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটছে। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কেবল এই দুই আসামিই নয়, বরং আইনের চোখে পলাতক থাকা অন্য সকল পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারেও তাদের এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অবিরামভাবে পরিচালিত হবে। অপরাধ দমনে পুলিশের এমন কঠোর ও আপসহীন মনোভাব অব্যাহত থাকলে মদন উপজেলার জনজীবন আরও বেশি নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবী মহল।

No comments found


News Card Generator