শ্রীপুরে পুলিশি অভিযানে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার, মূল অভিযুক্ত পলাতক.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শ্রীপুরে পুলিশি অভিযানে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার, মূল অভিযুক্ত পলাতক..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
শ্রীপুরে পুলিশি অভিযানে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার, মূল অভিযুক্ত পলাতক..
শ্রীপুরে পুলিশি অভিযানে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার, মূল অভিযুক্ত পলাতক..
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮৮ কেজি নিষিদ্ধ গাঁজাসহ তাহমিনা নামের এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় মূল অভিযুক্ত কবির হোসেন পালিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।..

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমি মধ্যপাড়া এলাকায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত পরিচালিত এক বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ৮৮ কেজি নিষিদ্ধ গাঁজা উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জনৈক কাজলের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও চিহ্নিত মাদক কারবারি কবির হোসেনের বসত ঘরে এই আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযันকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রধান অভিযুক্ত কবির হোসেন অত্যন্ত চতুরতার সাথে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, মাদক কেনাবেচার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে তার স্ত্রী তাহমিনাকে (৩৫) ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান উদ্ধারের ঘটনাটি স্থানীয় অপরাধ চক্রের গভীর নেটওয়ার্ক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মুখেও তাদের অপরাধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অপচেষ্টা স্পষ্ট করে তোলে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত এই বিপুল গাঁজা প্রমাণ করে যে শ্রীপুর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিদের একটি নিরাপদ রুট বা স্টোরেজ পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা স্থানীয় যুবসমাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য একটি চরম উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযানের পর গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এই সফল অভিযানের বিস্তারিত গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত তাহমিনা তার স্বামী কবির হোসেনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে আসছিল এবং সাধারণ মানুষের অগোচরে অপরাধের এক শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। মূল অভিযুক্ত কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দেশের বিভিন্ন থানায় ১০টি মাদক মামলা এবং ১টি পুলিশকে মারধরের গুরুতর মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা তার দুর্ধর্ষ অপরাধী হয়ে ওঠার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, স্বামী-স্ত্রী মিলে গড়ে তোলা এই চক্রটি কেবল স্থানীয় পর্যায়েই নয়, বরং আশপাশের বিভিন্ন জেলায়ও মাদকের চালান সরবরাহ করত। ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে এই চক্রটির দৌরাত্ম্যে এলাকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে, যার ফলে পুলিশের এই সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

ঘটনার পরপরই শ্রীপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন এবং সেই মামলায় গ্রেফতারকৃত তাহমিনাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর জেলার শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (ডিবি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোজাম্মেল হোসেন (ডিএসবি), সহকারী পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম (কালিয়াকৈর সার্কেল), ডিআইও-১ মো. আবুল বাশার মিয়া এবং শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম অন্যতম। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে এবং পলাতক প্রধান অভিযুক্ত কবির হোসেনকে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই কঠোর অবস্থান মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিরই একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে এই অভিযান অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাদক ব্যবসার মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, মূল হোতা কবির হোসেনের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা কার্যকারিতা ও অপারেশনের ক্ষেত্রে কিছু ফাঁকফোকরের ইঙ্গিত দেয়। ৮৮ কেজি গাঁজার মতো বিশাল চালান উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাদের শিকড় কত গভীরে প্রসারিত করেছে। যদি এই ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রগুলোকে সমূলে উৎপাটন করা না যায়, তবে মাদক কারবারিরা পুনর্বাসিত হয়ে পুনরায় যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। তাই কেবল একজন সহযোগীকে গ্রেফতার এবং একটি চালান জব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, এই সিন্ডিকেটের পেছনে থাকা মদদদাতা ও অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করে আইনের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, শ্রীপুরসহ পুরো গাজীপুর অঞ্চলে অপরাধ ও মাদকের কালো ছায়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়, যা সার্বিক জননিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি স্থায়ী হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

No se encontraron comentarios


News Card Generator