অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের আসন নিয়ে আলোচনা বৃষ্টির কারণে স্থান পরিবর্তন, সংকুলান না হওয়ায় পেছনে বসেন তিনি—বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের আসন নিয়ে আলোচনা বৃষ্টির কারণে স্থান পরিবর্তন, সংকুলান না হওয়ায় পেছনে বসেন তিনি—বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ..

M. JAMSHED ALAM avatar   
M. JAMSHED ALAM
অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের আসন নিয়ে আলোচনা বৃষ্টির কারণে স্থান পরিবর্তন, সংকুলান না হওয়ায় পেছনে বসেন তিনি—বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ..
অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের আসন নিয়ে আলোচনা বৃষ্টির কারণে স্থান পরিবর্তন, সংকুলান না হওয়ায় পেছনে বসেন তিনি—বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ..
ছবি: সংগৃহীত

অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের আসন নিয়ে আলোচনা
বৃষ্টির কারণে স্থান পরিবর্তন, সংকুলান না হওয়ায় পেছনে বসেন তিনি—বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ..

অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের আসন নিয়ে আলোচনা

বৃষ্টির কারণে স্থান পরিবর্তন, সংকুলান না হওয়ায় পেছনে বসেন তিনি—বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

 
এম জামশেদ আলম, 
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
 
বৃষ্টির কারণে মাঠের পরিবর্তে অনুষ্ঠান করতে হয়েছে ছোট হলরুমে। সীমিত পরিসরের সেই আয়োজনে সামনের সারিতে বসেছেন অতিথিরা, আর পেছনের সারিতে দেখা গেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে। অনুষ্ঠানের এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধান শিক্ষকের আসন বিন্যাস নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়েও কেন তাঁকে পেছনের সারিতে বসতে হলো। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এর পেছনে কোনো অবহেলা বা অসম্মানের বিষয় নেই; জায়গা সংকটের কারণে প্রধান শিক্ষক নিজেই পেছনে বসেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের জাফরনগর অর্পণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা, মতবিনিময় ও অভিভাবক সমাবেশে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে অতিথিদের আসন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার রায় বসেছেন পেছনের সারিতে। ছবিটি প্রকাশের পর কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যক্তি আসন বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সামনের সারিতে বসানো নিয়েও কেউ কেউ মন্তব্য করেন।
তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার রায়ের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি প্রথমে বিদ্যালয়ের মাঠে করার জন্য যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে শেষ মুহূর্তে হলরুমে স্থানান্তর করতে হয়। হলরুমটি তুলনামূলক ছোট হওয়ায় সেখানে জায়গা সংকট তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিথিদের আগে বসানো হয়েছে এবং তিনি নিজেই পেছনের সারিতে বসেছেন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সামনের সারিতে বসানো প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাঁদের কেউ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, আবার কেউ অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিনও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘স্থান সংকটের কারণে প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছায় পেছনের সারিতে বসেছেন। বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রতিনিধি ছিলেন।’
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একাংশের বক্তব্য, আসন বিন্যাস কেবল আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অবস্থান ও মর্যাদার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। তাঁদের মতে, এমন আয়োজনের ক্ষেত্রে আগেই যথাযথ আসন পরিকল্পনা করা হলে এ ধরনের প্রশ্ন ওঠার সুযোগ কমে।
তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিস্থিতিজনিত। মাঠে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও বৃষ্টির কারণে হঠাৎ করে অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করতে হওয়ায় হলরুমে জায়গা সংকট দেখা দেয়। ফলে আসন বিন্যাসও প্রত্যাশিতভাবে করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষককে পেছনের সারিতে বসানোর পেছনে কোনো ধরনের অসম্মান বা অবমূল্যায়নের উদ্দেশ্য ছিল না; বিষয়টি ছিল অনিচ্ছাকৃত এবং স্থান সংকটের কারণে সৃষ্ট একটি পরিস্থিতি।
Keine Kommentare gefunden


News Card Generator