ময়মনসিংহের শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতির প্রতিবেদন নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৫ ও ২৮ আগস্ট বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে ওসির বিরুদ্ধে যানবাহন থেকে মাসিক মাসোহারা আদায়, রেকার বিলের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ওসি আমিনুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, কোনো ধরনের তথ্য-উপাত্ত যাচাই না করে এবং তাঁর বক্তব্য গ্রহণ না করেই পরিকল্পিতভাবে এই সংবাদগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, যা তাঁর পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। ঘটনার সূত্রপাত মূলত মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন ও শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে হলেও বর্তমানে এটি একটি আইনি দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৬৫ জনের একটি কথিত মাসোহারা তালিকা এবং ওসির ব্যক্তিগত মালিকানায় দুটি ছয়তলা ভবন থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসি আমিনুল ইসলাম সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, তাঁর নামে এমন কোনো সম্পদ থাকলে তা প্রমাণসাপেক্ষে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া প্রতি শুক্রবার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তিনি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। ওসি আমিনুল ইসলামের দাবি, তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের পেছনে মূলত কিছু অসাধু সাংবাদিকের ‘মান্থলি’ বা মাসোহারা না পাওয়ার ক্ষোভ কাজ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা তাঁর কাছে অবৈধ সুবিধা দাবি করেছিলেন, যা প্রত্যাখ্যান করায় তাঁকে ফাঁসানোর জন্য এই বানোয়াট সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা নথি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি।
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ওসি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ওসি আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে পুলিশ প্রশাসন সবসময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ আনা এবং যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ পেশাদারিত্বের পরিপন্থী বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম ও মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ওসি কোনো চাপের মুখে পড়েছেন কি না, সেটিও এখন পর্যালোচনার দাবি রাখে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। একদিকে পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে কোনো সরকারি কর্মকর্তার চরিত্র হননের ঝুঁকিও সংবাদমাধ্যমের নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ময়মনসিংহ-নেত্রকোণা মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন ও মাদক চোরাচালান দমনে হাইওয়ে পুলিশের যে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে, এই বিতর্কের ফলে তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারে, তবেই এই বিতর্কিত পরিস্থিতির অবসান সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।