নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ১৪.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ১৪..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ১৪..
নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ১৪..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল আয়োজনের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট ৫০-৫৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।..

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের পাবই এলাকায় শুক্রবার ভোরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা-কর্মী জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে জড়ো হলে পুলিশি অভিযানে ১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। সকাল ছয়টার দিকে শ্যামগঞ্জ-জারিয়া সড়কের পাশে অবস্থিত একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে তারা ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রাম পুলিশ বিষয়টি অবহিত করলে পূর্বধলা থানা পুলিশ ও শ্যামগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা মোটরসাইকেল যোগে পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন স্থান এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে মোট ১৪ জনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অতর্কিতে সংঘটিত এই ঝটিকা মিছিলের উদ্দেশ্য ছিল জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মারুফ হোসেন মুন্নাসহ অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও প্রকাশ্যে এ ধরনের মিছিলের আয়োজন আইনশৃঙ্খলার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন এবং জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। মিছিলের সাথে জড়িতরা যানবাহন চলাচল ব্যাহত করা এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের পরিকল্পনা করেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান সড়কে এ ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতার পরিকল্পনা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ নাগরিকরা তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষিতে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় আইন অমান্যকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এসআই মোহাম্মদ তাইজুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় মোট ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এই ঝটিকা মিছিলের নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী এবং অর্থায়নকারীদের নাম বেরিয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পলাতক আসামিদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনিক কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত টহলের মাধ্যমে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম দমনে প্রশাসন কতটা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও কীভাবে এই ধরনের সংগঠিত মিছিলের পরিকল্পনা করা সম্ভব হলো। এই ঘটনার প্রভাব হিসেবে ভবিষ্যতে এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের গোপন তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের নিশ্চয়তা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের ওপরই নির্ভর করছে স্থানীয় জননিরাপত্তার সামগ্রিক পরিস্থিতি।

نظری یافت نشد


News Card Generator